বাংলা বর্ষবরণে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রোববার এ রিট আবেদন দায়ের করেন, যেটিকে জনস্বার্থ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। রিটে সংস্কৃতি, ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিনকে বিবাদী করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
রিট আবেদনে বলা হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন বাঙালি ঐতিহ্য নয়; বরং এটি ১৯৮৯ সালে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে শুরু হওয়া একটি ‘নবসৃষ্ট ও কৃত্রিম’ কার্যক্রম, যা পরে নাম পরিবর্তন করে পহেলা বৈশাখের মূল সংস্কৃতির সঙ্গে কৌশলে যুক্ত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, পাখি, মাছ ও পশুর বিশালাকৃতির প্রতিকৃতি বহন করে ‘মঙ্গল’ বা ‘কল্যাণ’ প্রার্থনা করা ইসলামী আকিদা ও ঈমানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ মুসলমান কেবলমাত্র আল্লাহর কাছেই মঙ্গল বা কল্যাণ প্রার্থনা করতে পারে। গত শতকের আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙার আহ্বানে পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি। কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করে আসছিল আওয়ামী লীগের সময় থেকেই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই বিরোধিতা আরো জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। এবার বাংলা নববর্ষ–১৪৩৩ উদযাপনের কর্মসূচি ঠিক করতে ৩০ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সভা হয়। সভার পর ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, নববর্ষ উপলক্ষে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে। তবে আনন্দ শোভাযাত্রা নাকি মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। তখন ৩১ মার্চ সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে আনন্দ শোভাযাত্রা করার ‘প্রয়োজন ছিল না’। তার এ বক্তব্য নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় তর্ক–বিতর্ক চলে। সেই প্রেক্ষাপটে এবার সংস্কৃতিমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
এর মধ্যেই ‘মঙ্গল’ নাম বাদ দিতে এ রিট আবেদন হল।
আবেদনে বলা হয়, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ঈমান আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এতে পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন, প্রচার, অনুমোদন বা যেকোনোভাবে পরিচালনা থেকে বিবাদীদের বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।














