মগনামা জেটিঘাট সংস্কার হয়নি ২০ বছরেও, পারাপারে ঝুঁকি

কুতুবদিয়া চ্যানেল

ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী | শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের দ্বীপ কুতুবদিয়ায় যাতায়াতের প্রধান ঘাট পেকুয়ার মগনামা জেটি ঘাটের সংস্কার হয়নি ২০ বছরেও। অযত্ন অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এই ঘাট। ফলে দ্বীপে যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে। নতুন সরকারের কাছে এলাকাবাসীর দাবিজরুরি ভিত্তিতে জেটিঘাটটি সংস্কার করে জনগণের ভোগান্তি লাঘব করা হোক।

মগনামা টার্মিনাল জেটিঘাট থেকে কুতুবদিয়ার ৫টি ঘাটে যাত্রী পারাপার করে। এছাড়া কক্সবাজার, মহেশখালী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায় এই ঘাট দিয়ে। বঙ্গোপসাগরে আহরিত মাছ বিক্রির জন্যও প্রসিদ্ধ এই ঘাট। তাছাড়াও কুতুবদিয়া চ্যানেলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন এ ঘাটে ভিড় জমায় শত শত পর্যটক। সম্প্রতি মগনামা জেটি ঘাট থেকে বড়ঘোপ ঘাটে সি ট্রাক সংযোগ করায় যাত্রী সেবায় কিছুটা স্বস্তি এলেও ওই সি ট্রাকে উঠতে মগনামা জেটি প্রান্তে ঝুঁকি বেড়েছে।

জানা যায়, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৫ সালে ১২ আগস্ট মগনামা জেটিঘাটের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ঘাট নির্মাণ করার পরে কক্সবাজার জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই ঘাটটির বাৎসরিক ইজারা নিয়ন্ত্রণ করে কঙবাজার জেলা পরিষদ।

স্থানীয়রা জানায়, জেটি ঘাট থেকে কঙবাজার জেলা পরিষদ বাৎসরিক ইজারা দিয়ে কোটি টাকা আদায় করলেও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোনো সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেনি। তাছাড়া এলজিইডি ঘাট নির্মাণ করলেও সেটার ইজারা কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা পরিষদ হওয়ায় দুই সরকারি বিভাগের টানাটানিতে ঘাটটি সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। যার ফলে বর্তমানে ঘাটটির এমন দশা, যে কোন মূহুর্তে তা ভেঙে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে পিলার ও রেলিংয়ে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, মগনামা জেটি ঘাটটির ইজারা ২ ভাগে বিভক্ত। জেটি ঘাটের ইজারা দেয় কঙবাজার জেলা পরিষদ। পারাপারের ইজারা দেয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। আবার জেলা প্রশাসন ইজারা দেয় ২ ভাগে। একটি হচ্ছে মগনামাবড়ঘোপ টার্মিনাল জেটিঘাট আরেকটি হচ্ছে মগনামাদরবার লঞ্চ ঘাট। চলতি অর্থবছরে মগনামা জেটি ঘাটটি ১ কোটি টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মগনামা টার্মিনাল জেটি ঘাট থেকে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ জেটিঘাট পারাপারের ইজারা দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকায়। আর মগনামা থেকে কুতুবদিয়ার দরবার ঘাটটি একই দপ্তর থেকে পারাপারের ইজারা দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায়।

সমপ্রতি মগনামা জেটি ঘাট পরিদর্শনে এসেছিলেন কঙবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, জেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে শীঘ্রই মগনামা জেটি সংস্কারের জন্যে বরাদ্দ দেয়া হবে। ইতিমধ্যেই তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানালেও এখনো পর্যন্ত কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, মগনামা ঘাটের জেটির পিলার, রেলিং, পাটাতন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঘাটের দুপাশে নৌযান ভেড়ানো জন্যে নির্মিত ২টি সিঁড়ি মূল পাটাতন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইজারাদার গাছের তক্তা দিয়ে কোনরকম মেরামত করে যাত্রী ও মালামাল ওঠানামা করে।

মগনামা জেটি ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, শীঘ্রই জেটিঘাট সংস্কারের ব্যবস্থা করা না হলে যে কোন সময় জেটিটি অচল হয়ে পারাপার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মগনামা জেটি ঘাট সংস্কারের বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মাহবুবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা পরিষদের সচিবের নেতৃত্বে একটি টিম পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করেছেন। কঙবাজার জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করে গেছেন দ্রুত সময়ে বরাদ্দ ছাড় নিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কঙবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানান, জেটি ঘাট সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর
পরবর্তী নিবন্ধঅর্ধশতাধিক উদ্যোক্তার ভাগ্য বদল