ভয়ের গল্প, জয়ের গল্প

ডায়াবেটিস

এম এ মালেক | বৃহস্পতিবার , ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ

ডায়াবেটিসের সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় ৫০ বছরের। অর্থাৎ অর্ধ শতাব্দীর। এটি এমন এক রোগ একবার হলে আর সারে না। সারাজীবন একে নিয়ন্ত্রণে রেখেই চলতে হয়। দেখা যায়, ডায়াবেটিস হওয়ার পর প্রথম দুই তিন বছর সবাই ডাক্তারের পরামর্শে চলে। তারপর ধীরে ধীরে অনেকে নিজেরাই ‘ডাক্তার’ হয়ে যান।

এক সময় ‘ডায়াবেটিস’ শব্দটি শুনলেই মানুষ ভয় পেয়ে যেত। ভাবতো জীবন বুঝি এখানেই শেষ। চারদিক থেকে ভয়ের বার্তাগুলোই সামনে চলে আসতো। আর আপনার, আমার সামনে সেই মানুষগুলোই বেশি- যারা অহেতুক এমন উপদেশ দিতে একটুও কার্পণ্য করবে না- যা শুনলে ভয়ে ‘আত্মারাম খাঁচাছাড়া’ হওয়ার উপক্রম হয়। এই করা যাবে না, এটা খাওয়া যাবে না, সব মিষ্টি চিরতরে বন্ধ, রাতে ভাত নয়, ইনসুলিন মানেই এ রোগের একেবারে ‘শেষ ধাপ’…। এখন সময় বদলেছে। প্রায় প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর ঘরেই আছে ব্লাড সুগার মাপার যন্ত্র, গ্লুকোমিটার। যখন প্রয়োজন, এক মিনিটেই টেস্ট করা যায়। একবার টেস্টে কতই বা আর খরচ- ২০/২৫ টাকা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি আর প্রচার প্রচারণার কারণে মানুষ এখন অনেক সচেতন, বুঝতে পারে- এই রোগ নিরাময়যোগ্য নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ডায়াবেটিস মানে ‘সব শেষ নয়’, জীবনটাকে ‘নতুনভাবে শুরু করার’ গল্প। এ প্রসঙ্গে হেলেন কেলারের একটি উদ্ধৃতির কথা মনে পড়ছে। হেলেন কেলার ছিলেন আমেরিকার দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী লেখিকা। বিশ্বের অনেকেই তাকে সাহসের প্রতীক হিসাবেই আখ্যায়িত করেন। তিনি লিখেছিলেন- Although the world is full of suffering, it is also full of the overcoming of it.যার অর্থ-পৃথিবীতে অনেক দুঃখ কষ্ট আছে, কিন্তু তা জয় করার শক্তিও সমানভাবে আছে।

মাঝে মাঝে আমার নিজেকে একজন ‘রিকন্ডিশনড মানুষ’ মনে হয়। ১০/১৫ বছরের পুরনো গাড়িকে ইঞ্জিন ডাউন করে সব বদলিয়ে আবার যেভাবে চালুর ব্যবস্থা করা হয়- আমার অবস্থাও সেরকম। আমার হার্টে ৫টা বাইপাস। গল ব্লাডার অপারেশন করে ফেলে দিতে হয়েছে। অপারেশন করতে হয়েছে হার্নিয়া। দুই চোখের ছানি কাটাতে হয়েছে। নিচের পাটির বেশিরভাগ দাঁত বাঁধানো। তাই নিজেকে ‘রিকন্ডিশনড’ না বলে কী বলব! প্রায় প্রতি বছরই সিঙ্গাপুর যেতে হয়- হার্টের অবস্থা জানার জন্য। ডা. মরিস চু আমার চিকিৎসক। আগে মাউন্ট এলিজাবেথে বসতেন। এখন নিজে বিরাট চেম্বার নিয়ে বসেন। তিনি প্রতিবারই প্রায় একই কথা বলেন- রোগব্যাধি থাকবেই। তাই বলে জীবনের গল্পটা যেন ভয়ের না হয়। জীবনের গল্প হতে হবে ভয়কে জয় করার।

ডা. মরিস চু’র এই কথাটি প্রত্যেক ডায়াবেটিক রোগীর জন্যও প্রযোজ্য। মনে রাখবেন, ডায়াবেটিস মানে জীবনের ছন্দ থেমে যাওয়া নয়। বরং জীবনের ছন্দটাকে নতুন সুরে বাঁধা। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, লুকোবেন না। আপনার, আমার চারপাশে অনেক বিখ্যাত মানুষ আছেন, সেলেব্রেটি আছেন- যারা ডায়াবেটিক রোগী। তারা থেমে যাননি। বরং সাফল্যের জয়রথটাকে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

আগামীকাল ১৪ নভেম্বর, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। কারণ এদিন ড. ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং এর জন্মদিন। তিনি ছিলেন সেই কানাডিয়ান বিজ্ঞানী যিনি ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেন। ইনসুলিনের প্রসঙ্গে পরে আসছি। যেহেতু ডায়াবেটিক রোগী, তাই এই দিবসে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একবার এ রকম এক অনুষ্ঠানে বললাম, আমার ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকে। তাই আমি মিষ্টি খেতে পারি। একজন জানতে চাইলেন, এটা কী করে আমি সম্ভব করেছি? বললাম, খুব সোজা। আমি প্রতি সপ্তাহেই ব্লাড সুগার টেস্ট করি। ধরেন, আমি ঠিক করলাম শুক্রবারে এই টেস্ট করবো। তাই রোববার থেকে সব ধরনের মিষ্টি খাওয়া বন্ধ। তাই টেস্টে সুগার লেভেল ৬/৭ এর মধ্যেই পাওয়া যায়। সুতরাং পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি খেতে তো আর বাধা থাকে না। এখানে বলে রাখা ভালো, প্রতিদিন সকালের নাস্তার আগে আমাকে একটি করে উরধসরপৎড়হ খেতে হয়। সাথে খেতে হয় অন্যান্য রোগের জন্য আরো টি ট্যাবলেট।

বিশ্বাস করুন, ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগে আমি বেশি মিষ্টি খেতাম না। যেই ডাক্তার বললেন, আপনি আর মিষ্টি খেতে পারবেন না, তখন থেকেই মিষ্টির প্রতি ঝোঁকটা যেন বেড়ে গেল। এমন লোক আপনি অহরহ খুঁজে পাবেন, যারা বলবে- ‘জীবন তো একটাই। তাই না খেয়ে মরার চেয়ে খেয়ে মরা ভাল।’ এগুলো আবেগী কথা। ডায়াবেটিসে না খেয়ে থাকতে হয় না। খান, সমস্যা নেই। কিন্তু পরিমাণ মত খান, ডাক্তারের পরামর্শ মত খান। আপনি ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করুন, না হয় ডায়াবেটিস আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করবে।

জীবনের সবক্ষেত্রেইে একটা পরিমিতিবোধ থাকতে হয়। না থাকলেই সমস্যা। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও তাই। পরিমাণের বেশি খেলে পস্তাতে হয়। অনিয়ন্ত্রিত সুগারে হার্ট, কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। পা, চোখ, দাঁতেও জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, হাতে ধরে মৃত্যুকে ডেকে আনার মধ্যে বাহাদুরির কিছুই নেই। হার্ট, কিডনির মত জটিল রোগ একেকটি পরিবারের শান্তি, স্বস্তি এবং সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। একজন ডায়ালাইসিসের রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে তার স্বজনদের এক দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এজন্যই যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে তাদের সামনে একটি সূত্র হাজির করা হয়, থ্রি ‘ডি’ সূত্র – উরবঃ, উরংপরঢ়ষরহব ধহফ উৎঁম. মৃত্যু একদিন প্রত্যেকেরই হবে। কিন্তু জীবনকে যত্নে, সংযমে, আর সচেতনতায় রক্ষা করাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ৫৭% মানুষ জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫৪ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে। আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই টাইপ-২ ডায়াবেটিস, প্রায় ৯০ শতাংশ। টাইপ-২ শুনলেই আমরা একটু ভয় পাই। অনেকেই মনে করেন, এটা টাইপ-১ এর পরের ধাপ। ব্যাপারটি আসলে তা নয়।

আমাদের পাকস্থলীর উপরের অংশে ছোট্ট একটি অঙ্গ রয়েছে- নাম অগ্ন্যাশয়। ইংরেজিতে বলে চধহপৎবধং। আমরা কিছু খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্ত থেকে এই গ্লুকোজ শরীরের কোষে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখে। গ্লুকোজ কোষের ভেতরে গিয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। আমরা শক্তি পাই। ডায়াবেটিসে এই প্রক্রিয়টিই ব্যাহত হয়ে যায়। তখন রক্তে বাড়তি গ্লুকোজ বা শর্করা জমতে থাকে এবং তা শরীরে একেকটি অঙ্গকে বিকল করে দেয়।

টাইপ ১ ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয় একেবারেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। বা খুবই কম তৈরি করে। ফলে রোগীকে বেঁচে থাকার জন্য বাইরে থেকে ইনসুলিন নিতেই হয়। এর আর কোনো বিকল্প নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শৈশব বা কৈশোরে এই ডায়াবেটিস দেখা দেয় বলে একে juvenile diabetes-ও বলা হয়।

অপরদিকে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই ইনসুলিন শরীর ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। শরীরের কোষগুলো হয়ে যায় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। ফলে রক্তে সুগার বা শর্করা বাড়তেই থাকে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের এ রোগ হয়। তবে স্থূলতার কারণে আজকাল কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা যায়। জীবনধারা পরিবর্তন, মুখে খাওয়ার ওষুধ এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন নিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এবার ইনসুলিন প্রসঙ্গে আসি। বলা হয়, মানবজাতির ইতিহাসে প্রধান তিনটি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মধ্যে এটি একটি। অন্য দুটি হলো- প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন, এবং অপরটি ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস), যাকে সচরাচর আমরা ওরস্যালাইন বলি।

ইনসুলিন শব্দের অর্থ দ্বীপ। শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Insula থেকে। অগ্ন্যাশয়ের যেসব কোষে ইনসুলিন উৎপন্ন হয় সেগুলো দেখতে দ্বীপের মত। আজ থেকে ১০৪ বছর আগে, ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেন কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ চিকিৎসক ফ্রেডরিক ব্যান্টিং, যার জন্মদিনে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করা হয়। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন মেডিকেল ছাত্র চার্লস বেস্ট। তাদের এই সাফল্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অবিশ্বাস্য গল্প- যা ডায়াবেটিস রোগীর জীবন ও মৃত্যুর মাঝের ব্যবধান মুছে দিয়েছিল। এর পরের বছর ১৯২২ সালের ১১ জানুয়ারি, টাইপ-১ আক্রান্ত লিওনার্ড থম্পসন নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে প্রথম ইনসুলিন দেওয়া হয়। প্রথম প্রয়োগটি পুরোপুরি সফল না হলেও, দ্বিতীয়বার প্রয়োগের পর থম্পসনের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হয় এবং সে সুস্থ হয়ে ওঠে। শুরু হয় ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা। এরপর বিগত এক শতাব্দীতে কোটি কোটি মানুষ ইনসুলিনে তাদের জীবন রক্ষা করেছে।

এর আগে টাইপ- ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু ছিল অবধারিত। তখন এর কোনো কার্যকর চিকিৎসা ছিল না। রোগীদের কঠোর খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে রাখা হতো। বলতে গেলে প্রায় অনাহারে, অপুষ্টিতে ভুগে কঙ্কালসার হয়ে তারা দুই তিন বছর বা আরো কম সময়ের মধ্যে মারা যেত। ইনসুলিনের আবিষ্কার তাদের জন্য নিয়ে এলো বেঁচে থাকার প্রতিশ্রুতি। ফ্রেডরিক ব্যান্টিং ইনসুলিনের পেটেন্ট মাত্র এক ডলারে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। উদ্দেশ্য ছিল, এটি যেন ব্যবসার জন্য নয়, বরং বিশ্বের সব ডায়াবেটিস রোগীর সেবায় সহজলভ্য হয়। তিনি বলেছিলেন, Insulin does not belongs to me, it belongs to the world. মানে, ইনসুলিন শুধু আমার নয়, এটি পুরো বিশ্বের। এখন প্রতিদিন পৃথিবীতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাইপ-১ রোগী ইনসুলিন নিয়ে বেঁচে থাকে। তারা জানে, একটি ইনজেকশন- একবারে একদিনের জীবন।

ওয়াসিম আকরামকে আপনারা সবাই চিনেন। পাকিস্তানের কিংবদন্তী ক্রিকেটার। ১৯৯৭ সালে তিনি যখন ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তখন তাঁর টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। তখন বয়স ৩১। বন্ধু এবং স্বজনরা ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি শুরুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও নিজেকে ফিট রাখতে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা শুরু করেন। এবং ফর্ম ধরে রেখেই ২০০৩ সাল পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান। তাঁর ভাষায়, ‘ডায়াবেটিস আপনার স্বপ্ন অর্জন থেকে বিরত রাখে না। আমি যদি পারি, আপনিও পারবেন। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে তবে নিজেকে বা অন্য কাউকে দোষ দেবেন না। এর বিরুদ্ধে লড়াই করুন।’ ১৯৯৭ থেকে ইনসুলিন তাঁর জীবনের অপরিহার্য অংশ, যেখানেই যান সঙ্গে রাখেন।

শুরুতেই বলেছি, ডায়াবেটিস ধরা পড়ার দুই তিন বছর পর আমরা অনেকে নিজেরাই ডাক্তার হয়ে যাই। এর একটা বড় বিপদ আছে। ট্যাবলেট কিংবা ইনসুলিন- যাই নেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নেবেন। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহণ এবং নির্দেশিত সময়ের মধ্যে খাবার না খেলে হাইপো (Hypoglycemia ) বা সুগার ঘওখ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এগুলো আমরা সকলেই কমবেশি জানি। কিন্তু যখন মানি না, বা ভুলে যাই বিপদ তখনই আসে। এই শহরে আমি যাদের সাথে বড় হয়েছি- তাদের মধ্যে একজন ইউসুফ গনি চৌধুরী। হাতি কোম্পানির নাতি হিসাবেও তার পরিচিতি ছিল। রাজাপুকুর লেইনে বাসা। হাইপো হয়ে তার মৃত্যু হয়। ২৫/৩০ বছর কেটে গেছে। কিন্তু এখনও তার এ রকম মৃত্যু আমাকে বেদনাতুর করে। সে যে হাইপোর লক্ষণ সম্পর্কে জানতো না তা নয়। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে হয়ত ভুলে গিয়েছিল। অথবা বুঝতেই পারেনি।

এখন ‘স্মার্ট’ এর যুগ। স্মার্ট ফোন, স্মার্ট টিভি…। সামনে নাকি স্মার্ট ইনসুলিনও আসবে। এটা অতিরিক্ত ইনসুলিন গ্রহণের ফলে হাইপো হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেবে। বলা হচ্ছে, এটি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে এবং এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় হতে পারে। একবার প্রয়োগ করলে তা দীর্ঘস্থায়ীভাবে কাজ করতে পারবে। যখন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে, তখন এই ইনসুলিন সক্রিয় হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাবে এবং যখন মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে, তখন এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে যাবে। অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করা খুব বেশি কমে যাওয়া বা খুব বেশি বেড়ে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করবে। সম্ভব হলে এবং সহজলভ্য হলে সেটি হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরেকটি যুগান্তকারী ঘটনা।

আমরা অপেক্ষায় থাকলাম। এটা তো সত্যি, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি বিগত কয়েক দশকে ডায়াবেটিসের সাথে লড়াইটা অনেক সহজ করে দিয়েছে। কেউ একজন বলেছিলেন- One day, I hope we talk about diabetes the way we talk about the common cold. মানে, ‘আমি আশা করছি- সাধারণ সর্দি-কাশি নিয়ে আমরা যেভাবে কথা বলি, একদিন যেন ডায়াবেটিস নিয়েও আমরা তেমন সহজভাবে কথা বলতে পারব।’ সেদিন আসা পর্যন্ত, ডায়াবেটিস চিকিৎসায় এখন যে নির্দেশনা তা আমাদের মেনে চলতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনির্বাচনের আগে গণভোটের যৌক্তিকতা নেই, সময়ও নেই : সালাহউদ্দিন.
পরবর্তী নিবন্ধপোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে দ্রুত ও সহজ কাস্টমস বন্ড সেবা চায় বিজিএমইএ