ভ্যান্স না রুবিও? উত্তরসূরী বিতর্কে পক্ষ নিলেন না ট্রাম্প

| শুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার উত্তরসূরী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে কে রিপাবলিকান দলের টিকেট পেতে পারেন, সে প্রশ্নের জবাবে পক্ষ নিতে রাজি হলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিডিনিউজের।

তার উত্তরসূরী দৌড়ে ভ্যান্স ও রুবিওই এগিয়ে আছে বলে বেশিরভাগ রিপাবলিকান নেতাকর্মীই মনে করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে প্রার্থী হবেন, তা নির্ধারণে ট্রাম্পের সমর্থন বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ওহাইওর সাবেক সেনেটর ভ্যান্স বলে আসছেন, সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে রিপাবলিকান দলে তার মূল প্রতিপক্ষ মনে করা হচ্ছে ফ্লোরিডার সাবেক সেনেটর রুবিওকে, তিনি ২০১৬ সালেও একবার রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নেমেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে পেরে ওঠেননি, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রুবিও ২০২৮ এর নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতার সম্ভাবনা নাকচ করেননি, একইসঙ্গে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্সের প্রশংসাও করেছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স ও রুবিওকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, উত্তরসূরী হিসেবে তিনি কারও না কারও দিকে তো ঝুঁকবেনই, তবে এখন এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। আরও (প্রায়) তিন বছর আছে আমাদের হাতে। আমি বলতে চাই না, আপনি জানেন, আমার কাছে দুইজন আছে যারা অসাধারণ কাজ করছে। আমি চাই না কোনো বিতর্কে যেতে, বা লড়াইয়ে, এ শব্দ ব্যবহার করতে চাই না, কোনো লড়াই হবে না।

দেখুন জেডি অসাধারণ, মার্কোও অসাধারণ, বলেছেন তিনি। ট্রাম্প এর আগে কয়েকবারই বলেছেন, ভ্যান্স ও রুবিওর একসঙ্গে একই টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির এখন যে হাল তাতে পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পার্টিতেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে বিপুল সংখ্যক আগ্রহীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দুজনের মধ্যে রুবিওর কূটনৈতিক দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। আমি কেবল বলতে পারি, দুজনের মধ্যে একজন অন্যজনের চেয়ে বেশি কূটনৈতিক, বলেছেন তিনি।

ভ্যান্সরুবিও দুজনকে খুবই বুদ্ধিমান বলেও তিনি অভিহিত করেছেন। আমার মনে হয় তাদের ধরনে পার্থক্য আছে। আপনি জানেন, আপনি নিজেও এ ব্যাপারটা দেখবেন। কিন্তু তারা দুজনই পারদর্শী। আমার মনে হয়, জেডি ও মার্কোর জোড়াকে হারানো খুবই কঠিন হবে। তবে রাজনীতিতে কখন কী হয়, তা তো আপনি জানবেন না, তাই না? বলেছেন ট্রাম্প। অসাংবিধানিক উপায়ে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চাইবেনা কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এবারও হেঁয়ালি করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত বছর নির্বাচিত হয়ে হোয়াইট হাউসে ঢোকার কিছুদিন পর তিনি এই মুখরোচক আলোচনা উসকে দিয়েছিলেন, পরে নিজেই ওই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে যখন পরবর্তী প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শুরু হবে তখনও প্রেসিডেন্ট পদে থেকে যেতে পারেন এমন কোনো দৃশ্যপট দেখেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না। এটা বেশ মজার হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাইজেরিয়ার গ্রামে প্রাণঘাতী হামলায় ১৭০ জন নিহত সেনা মোতায়েন
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারার বরুমছড়ায় মহিলা সমাবেশ