ভোলাখালে অষ্টম সেতুর উদ্যোগ, সহজ হবে পেকুয়া-মগনামার যোগাযোগ

মগনামা বাজারপাড়া থেকে বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার সেতুর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে

দেলওয়ার হোসাইন, পেকুয়া | রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত প্রস্তাবিত এ সেতু নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা–বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার–১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সুপারিশ ও প্রস্তাব সমপ্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়া থেকে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামে যাতায়াতের বিকল্প সড়কপথ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক যানজটের ভোগান্তি কমতে পারে। কৃষিপণ্য, লবণ ও মাছ পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা–বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা করছেন তারা।

ভোলাখালে ইতোমধ্যে ৭ সেতু : ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এগুলো হলো মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া–বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা–সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, মগনামা বাজারপাড়া–বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম সংযোগ সেতু। তাদের আশা, নতুন সেতুটি পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে যাতায়াতেও নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

দীর্ঘদিনের দাবি : এলাকাবাসী জানান, ভোলাখাল দীর্ঘদিন ধরে মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও। দীর্ঘদিনের দাবির পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, চকরিয়া–পেকুয়া–মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া–চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা–বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা–বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সমাজসেবক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভোলাখালের বোধামাঝির ঘোনা অংশে একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সেতুটি নির্মিত হলে মগনামার সঙ্গে বারবাকিয়া ইউনিয়নসহ পেকুয়া উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সঙ্গে যাতায়াতের জন্য একটি বিকল্প যোগাযোগপথ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমরা আশা করি, দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মগনামা বাজারপাড়া–বোধামাঝির ঘোনা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডেঙ্গুতে দেশে আরও ৬ জনের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে টিকা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ