দুর্নীতিবিরোধী জেন–জি বিক্ষোভের সাড়ে ছয় মাস পর নেপালে হওয়া সাধারণ নির্বাচনে প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। গত বৃহস্পতিবার দেশটির মোট ভোটারের মাত্র ৫৮ দশমিক ০৭ শতাংশ ভোট দিয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অথচ ২০০৮ সালের সাংবিধানিক পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২২ সালের নির্বাচন পর্যন্ত নেপালে ভোটদানের গড় হার ছিল ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ, বলছে কাঠমান্ডু পোস্ট। খবর বিডিনিউজের।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক গণনায় র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিকে (আরএসপি) প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীগুলোর তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত গণনায় ৬০টি আসনে আরএসপির প্রার্থীরা, ৮টি আসনে নেপালের কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) ৫টি, এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ও অন্যরা ৪টিতে এগিয়ে আছেন দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে একটি করে আসনে আরএসপি এবং নেপালি কংগ্রেস জয় পেয়েছে। ঝাপা–৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির চেয়ে ছয় হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন আরএসপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী বালেন্দ্র শাহ। কাঠমান্ডু–১ আসন ব্যাগে পুরেছেন আরএসপির রানজু দর্শনা। শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবার সকাল নাগাদ ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টের ১৬৫টি আসনের ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ১৬৫টি আসনেই প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয়। সংখ্যানুপাত পদ্ধতিতে বাকি ১১০টি আসন দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র, ৩৫ বছর বয়সী বালেনের নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে; অনলাইন–অফলাইনে অসংখ্য তরুণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন তিনি, যারা পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার। চীন ও ভারতের মাঝে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থায় থাকা দেশটির ৩ কোটি মানুষ কয়েক দশক ধরেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত; কৃষি নির্ভর অর্থনীতি ক্রমশ পঙ্গু হয়ে আসছে, বেকারত্ব তরতর করে বাড়ছে, ব্যাপক দুর্নীতি এসব সমস্যাকে আরও প্রকট করছে।
এসব ঘিরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ, অসন্তোষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিস্ফোরিত হয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, বাধে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, যার জেরে শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পদত্যাগ করতে হয়। গত তিন দশকে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট–লেনিনিস্ট, ইউএমএল), নেপালি কংগ্রেস ও নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি–ই দেশটির মধ্যেই ক্ষমতার পালাবদল দেখা গেছে। এবার তাতে ছেদ ঘটার সম্ভাবনা যে প্রবল, ভোটের প্রাথমিক গণনার ফলেই তা বোঝা যাচ্ছে।












