বাঁশখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কিছু কেন্দ্রে নারী পুরুষের দীর্ঘ লাইন, আবার কিছু কেন্দ্রে উপস্থিতি ছিল কম। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ভোট দিতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বাঁশখালী উপজেলার বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কালীপুর, কাথরিয়া, বৈলছড়ি এবং বাহারছড়ায় বেশ কয়জন বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোট দিতে আসেন। তাদের একজন ১০৮ বছরের বিধু রাণী শীল। তিনি কালীপুর এজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরে খুবই খুশি। ভোটকেন্দ্রে আসতে বা ভোট দিতে কোথাও কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হননি বলেও জানান তিনি।
গতকাল সকাল থেকেই বাঁশখালীর বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৭ প্রার্থীর মধ্যে বাঁশখালীতে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পশ্চিম গুনাগুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, জামায়াতের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম শেখেরখীল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল) পশ্চিম গন্ডামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ মনকিচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান করেন । সকাল সাড়ে ৮টায় বাঁশখালী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা যায়। সাড়ে নয়টায় উত্তর জলদী রুহুল্লা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী পুরুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পুঁইছড়ি ইজ্জতিয়া আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২টায় ৪৫ শতাংশ ভোট পড়ে। অপরদিকে পুঁইছড়ি মকসুদা খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটারের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে কম। ছনুয়ার হাজী কালামিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায় অনেকটা ফাঁকা। এছাড়া অপরাপর কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান লোকজন ভোট দিতে আসছেন। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্প্রদানের জন্য নির্বাচনে দায়িত্বরত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এবার নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে ১১২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬০ জন ভোটার ছিল। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল ৪ জন। তবে নির্বাচন চলাকালীন এবং ভোটগ্রহণ শেষে বাঁশখালী উপজেলায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।










