ভোটে দ্বৈত নাগরিকরা সুযোগ পেলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

| রবিবার , ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ

কোনো দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপি। ইসির আপিল শুনানির শেষদিন রোববারকে (আজ) রেডলাইন আখ্যা দিয়ে দলটি বলছে, কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি পার করে দেওয়ার চেষ্টা হলে তারা আইনি লড়াইয়েও যাবে। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আমরা কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে নির্বাচন করতে দেব না। আমরা দেখলাম, অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরেও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুণ্ডামি করছেন; একেকজন ২০০৩০০ লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন এবং শত শত আইনজীবীকে নিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য।

নির্বাচন কমিশনও এ ধরনের প্রার্থীদের নানাভাবে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও নানা ধরনের যুক্তিতর্ক, নানা ধরনের ফাঁকফোকর দিয়ে তাদেরকে বৈধতাদানের এক ধরনের প্রবণতা দেখতে পাই, যেটা আমাদের দেশের জন্য, আমাদের সংবিধানের জন্য, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য এবং সর্বোপরি জনগণের জন্য অশনি সংকেত।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া অনেক বিএনপি নেতারও সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেদের গণতন্ত্রের ধারকবাহক এবং অগ্রদূত বলে আসছে, কিন্তু তারা ১৮০ ডিগ্রি টার্ন নিয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, দেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। আসিফের অভিযোগ, যে লুটেরা শ্রেণি লুট করে বিদেশে বাড়িঘর করেছে, সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তারা আবারো জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য দেশে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পায়তারা করছে। আমরা কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচন করতে দেব না। যদি নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করার, কিংবা কোনো ধরনের ইন্টারপ্রেটেশনের মাধ্যমে তাদেরকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে প্রার্থিতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা আইনি লড়াইয়ে লড়ব এবং একই সঙ্গে রাজপথেও নামব। নির্বাচন কমিশনের এমন একপাক্ষিক অবস্থান

প্রার্থিতা যাচাইবাছাইয়ের পর্যায় থেকে দেখা যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আগামীকাল আবার এফিডেভিটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার যেসব কথা আমরা শুনেছি, তারপরে আমরা তাদেরকে (ইসি) আর কোনো ধরনের সুযোগ দেব না। আগামীকাল যদি আমরা দেখি, কোনো ঋণ খেলাপি বা কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কেউ নির্বাচন করার যোগ্যতা পাচ্ছেন, সেটা যে শর্তেই হোক, যেই ইন্টারপ্রেটেশনের মধ্য দিয়েই হোক, আমরা সেটার বিরুদ্ধে রাজপথে নামব।

জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আসিফ বলেন, আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচন কমিশনকে পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচন কমিশনের মত একটা দায়সারা নির্বাচন এবং একপাক্ষিক নির্বাচন বা সেটেলড নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ দিব না। এনসিপি তাদের জোট শরিকদেরকে নিয়ে বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি ডিল করবে।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, আজ বিএনপির ফেনী৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আমাদের লিগ্যাল টিমের সদস্যদের ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালি দিয়েছেন। তো আমরা এটাকে গালি হিসেবে নিচ্ছি না, আমরা মনে করি, আমরা ‘ব্লাডি সিটিজেন’। আমরা এই বাংলাদেশের ‘ব্লাডি নাগরিক’, কিন্তু আমরা ‘ব্লাডি ফরেইনার’ নই। আপনাদের মতো ‘ব্লাডি ফরেইনারদের’ বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের এবং জনপ্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই। বাংলাদেশের একটা উদীয়মান দল হিসেবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে আমরা কোনোভাবেই আপনাদের সেই সুযোগ দিব না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা
পরবর্তী নিবন্ধসরকারি কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে আইনি বাধা নেই : আলী রীয়াজ