ভোটের লড়াইয়ে ৭৬ নারী প্রার্থী, হিজড়া একজন

| শনিবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন ৭৬ জন নারী ও একজন হিজড়া। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী রয়েছে ৬১ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ১৬ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, বিএনপিতে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলেমার্কসবাদী ১০ জন, জাতীয় পার্টিতে ছয়জন এবং এনসিপিতে রয়েছেন দুজন। এর বাইরে গণফোরামে দুজন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ একজন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলেবাসদ চারজন, গণসংহতি আন্দোলন তিনজন, গণঅধিকার পরিষদেজিওপি তিনজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলজেএসডি ছয়জন, নাগরিক ঐক্যে একজন, বাংলাদেশের রিপাবলিকান পার্টিতে একজন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিতে দুজন। খবর বিডিনিউজের।

এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসিপিবি একজন, আমজনতার দলে একজন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশে একজন, এনপিপিতে একজন, ইনসানিয়াত বিপ্লবে চারজন, এবি পার্টিতে একজন ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিতে একজন নারী প্রার্থী হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থী ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৩২ জন ও স্বতন্ত্র রয়েছেন ২৪৯ জন। মোট দলীয় প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৬১ জন নারী বা প্রায় ৩.৫ শতাংশ ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র ২৪৯ জনের মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র নারী ভোটের মাঠে নেমেছেন, যা মোট স্বতন্ত্রের প্রায় ৭ শতাংশ। এবার নারী প্রার্থী রয়েছে ২০টি দলের। বাকি ৩১টি দল কোনো নারী প্রার্থীও দেয়নি।

এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থী কমায় হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, প্রতিবারের মতো এবার নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের হার নগণ্য এবং জুলাই সনদে প্রস্তাবিত ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা কোনো রাজনৈতিক দলই পূরণ করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থিতা ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ ইসলামপন্থি দলের একজনও নারী প্রার্থী নেই। সার্বিকভাবে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে নারীদের হার মাত্র ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এই হার ১০ শতাংশ। নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলগুলোর ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে অর্থ, পেশিশক্তি এবং ধর্মান্ধতার মতো রাজনৈতিক চালিকাশক্তি। এসব আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই এমন মন্তব্য করা মোটেও অমূলক হবে নানির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ও সংসদের নারী প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতিকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারী প্রার্থী রয়েছে এবারের ভোটে। সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৪ জন ভোটে ছিলেন নারী প্রার্থী। তাতে ১৯ জন জিতেছিলেন। এবার কতজন নারী সরাসরি ভোটে জেতে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

একমাত্র হিজড়া প্রার্থীর লড়াই : ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মোছা. আনোয়ারা ইসলাম রানী দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর৩ আসনে ঈগল প্রতীকে ২৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন হরিণ প্রতীকে।

ভোটের প্রচারের মধ্যে গতকাল আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, এবার বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা করি। সঠিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থাকলে ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দুর হলে বিজয়ী হতে পারব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকুতুকছড়ি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি চার বছরেও
পরবর্তী নিবন্ধতানজিদের সেঞ্চুরিতে রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন, চট্টগ্রামের স্বপ্নভঙ্গ