পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ছাড়ছে মানুষ। প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ও আন্তঃজেলা বাস স্টেশনসহ গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে। গরম ও যানজট উপেক্ষা করে বাড়ি ফিরতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ও বাস স্টেশনে পরিবার পরিজন নিয়ে হাজার হাজার যাত্রী ভিড় করেছেন। ইট–পাথর আর যান্ত্রিকতার এই শহরে সত্তর লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। বছরের ৩৬৫ দিনই থাকে জ্যাম আর যানজট লেগে থাকে নগরীর রাজপথগুলো। কিন্তু বছরের বিশেষ কিছু সময়, বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে নগরীর এ চিত্র বদলে যায়। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে ব্যস্ততম নগরী ছাড়ছে মানুষ। চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনাল গুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ‘নাড়ির টানে’ লাখ লাখ মানুষ চট্টগ্রাম ছাড়ছেন।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ভোর থেকেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও বেশির ভাগ ট্রেন–নির্ধারিত সময় মেনেই ছেড়ে যাচ্ছে। তবে বেশ কিছু ট্রেন ফিরতে দেরী করার কারণে–ছাড়তেও বিলম্ব হচ্ছে। ঈদে ট্রেনে প্রতিদিন ১৫ হাজারের মতো যাত্রী ঘরে ফিরছে। অপরদিকে অন্তঃজেলার বাসে করে প্রতিদিন ঈদে ৪০ হাজারের মতো যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক রয়েছে। প্রতিটি ট্রেনের যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। আজকে (মঙ্গলবার) সিলেট থেকে উদয়ন আসতে দেরী করায় পাহাড়িকা ছাড়দে দেড় ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। অন্যান্য ট্রেন গুলো নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে গেছে। সকল অন্তঃনগরের পাশাপাশি ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটে যাত্রী যাচ্ছে প্রতিটি ট্রেনে। চাঁদপুরগামী স্পেশাল ট্রেনও চলছে। রেল স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী–আরএনবির চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ আমান বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য আরএনবি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সার্বক্ষনিক সজাগ রয়েছে। টিকিট দেখেই প্রবেশ করানো হচ্ছে। টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিরুদ্ধে আরএনবি কাজ করছে।
গতকাল দুপুরে রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে স্টেশন ছাড়ছে। এখন পর্যন্ত শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় স্টেশনে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির আভাস দেখা গেছে।
এদিকে, নগরীর বাস কাউন্টারগুলোতেও দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের উপড়ে পড়া ভিড়। বিশেষ করে কদমতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, দামপাড়া গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকা, অলঙ্কার, একে খান এলাকার প্রতিটি কাউন্টারেই ছিল টিকিটপ্রত্যাশী ও যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। তপ্ত রোদে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি থাকলেও সবার চোখে–মুখে ছিল বাড়ি ফেরার প্রশান্তি।
আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন জানান, শৃঙ্খলার সাথে চট্টগ্রাম থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় ঈদের যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে আমাদের বাস গুলো। অতিরিক্ত কোনো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। নির্ধারিত ভাড়ায় বাস চলাচল করছে। চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে ১২শ’এসি ও ননএসি বাস চলাচল করছে। এসব বাসে করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন রুটে জনপ্রিয় দূরপাল্লার বাস সার্ভিস সমূহ বিশেষ করে–শ্যামলী, হানিফ পরিবহন, গ্রীণ লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, ইউনিক, দেশ ট্রাভেল, তিশা পরিবহন, ঈশিতা পরিবহন, শান্তি পরিবহন, সিল্ক লাইন, ইকোনো সার্ভিস, সেন্টমার্টিন, এ কে ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন ট্রাভেলস, স্বাধীন পরিবহন, মারছা পরিবহনের এসি ও ননএসি বাস সমূহ চলাচল করছে।












