প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে যে মুহূর্তে রাতের শেষ প্রহরে অসভ্য বর্বর তস্করের মত একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতিকে সস্ত্রীক ধরে নিয়ে যাচ্ছিল মার্কিনবাহিনী ঠিক সে সময়ে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ও গণতন্ত্রের উত্তরণের “কর্মকৌশল” নিয়ে আলোচনা করছিলেন এনসিপি নামক তরুণ তুর্কিদের নবগঠিত দল এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম সহ অপরাপর নেতৃবৃন্দ। সারা পৃথিবীর গণতন্ত্রের “পাহারাদার” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ মুহূর্তে আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উদগ্রীব কেননা আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান যেমন তাঁর প্রতি দীর্ঘ দিন ধরে অব্যাহত মার্কিনী সমর্থন ও সেদেশের শাসকদের “উদার নৈতিকতায়” আপ্লুত তেমনি বর্তমানে এ দেশের রাজনীতিতে এ মুহর্ূতে কয়েকটি “গুরুত্বহীন” বাম দল বাদে প্রত্যেকটি দল “গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য মার্কিন সমর্থনের জন্য উদগ্রীব। এর কয়েকদিন আগেই জামাত প্রধান যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে এসে সাংবাদিকদের কাছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে বলে জানালেন যখন অসহায় নারী শিশু সহ লক্ষাধিক মানুষের, ধর্ম পরিচয়ে মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত ও ইতোপূর্বে বিধ্বস্ত গাজায় ট্রাম্পের নির্দেশে জায়নবাদী নেতানিয়াহু পুনরায় হামলা শুরু করেছে। এরও আগে ঢাকায় ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিজ থেকে লন্ডনে গিয়ে দেশের ভবিষ্যত গণতান্ত্রিক উত্তরণের উপায় নিয়ে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে দেখা করে এসেছেন। এমনকি বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগও সম্ভবত তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নিয়ে মার্কিনীদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এ দেশে গত ৫৪ বছর ধরে শাসকগোষ্ঠীর গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতার বার বার অগণতান্ত্রিক পালাবদল যেন আমেরিকার অজান্তে ঘটে গেছে। আমরা স্মরণ করতে পারি আজ থেকে ’৫৪ বছর আগে ঠিক এমনি এক ডিসেম্বরের বিষণ্ন বিকেলে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের পূর্ব মুহূর্তে পাকিস্তানের সমর্থনে ও পাক সৈন্য ও তাদের এদেশীয় খুনি এজেন্টদের রক্ষার জন্য বঙ্গোপসাগরে মার্কিন রণতরী সপ্তম নৌবহরের এগিয়ে আসার আতংকিত খবরের স্মৃতি এবং যে খবরে এদেশের অনেকেরই আবার মুক্তিযুদ্ধের “নিশ্চিত পরাজয়ের” সম্ভাবনায় উদ্বাহু নৃত্য চোখে ভাসছে। পরিতাপের বিষয় তারাই এখন না চাওয়া এদেশের সার্বভৌমত্বের স্বাঘোষিত রক্ষক। সুদূর অতীতে ভারত বিজয়ে আগত আলেকজান্ডার তাঁর সহচর সেলুকাসকে যে কথা বলেছিলেন তা মনে করে বলতে ইচ্ছা হয় “কি বিচিত্র এই দেশ!” যাই হোক বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভান্ডার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর বাম দলগুলো ছাড়া কোন কথিত বৃহৎ দল নিন্দা জানিয়ে কোন বিবৃতি দিয়েছে বা প্রতিবাদ মিছিল করেছে বলে শুনিনি। এ মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসনাধীন বিশ্বে খনিজ–সম্পদের বিশাল ভান্ডার, ১৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত উত্তর মেরু তথা আর্কটিক অঞ্চলের অধিকার নিয়ে কোন বিলম্ব ট্রাম্পের সইছেনা। এখন নখদন্তহীন মার্কিন লেজুড় উদার গণতন্ত্রী পশ্চিম ইউরোপ নিজেদের যুদ্ধজোট ন্যাটোর প্রধান শক্তি ও নেতা মার্কিনী ভূমিকায় না পারছে কিছু করতে, না পারছে লড়তে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা ও অবস্থান নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে ট্রাম্প ফ্রান্স, বৃটেন ডেনমার্কসহ ৮টি ইউরোপীয় দেশের উপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছেন। ইতোপূর্বে আমাদের দেশসহ নানা দেশে তিনি রপ্তানী শুল্ক চাপিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে সংকটে ফেলে দিয়েছেন। আমাদের মার্কিন প্রিয় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা যে চুক্তি বলে শুল্ক কিছুটা কমিয়ে বাহবা নিচ্ছেন সেই চুক্তি বা মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং প্রকাশ করেননি। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী ভারতের উপর আমাদের চাইতে বেশি শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং এর পরেও রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ না করায় প্রিয় “বন্ধু” মোদির ভারতের বিরুদ্ধে এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ রপ্তানি শুল্ক ৫০ শতাংশে বৃদ্ধি করেছেন যা ৫০০ শতাংশে নিয়ে যাবেন বলে একই সাথে চীন ও ভারতকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু বিশাল অর্থনীতির দেশ হওয়ায় আমেরিকার বাজারে ভারতের রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাবার পরেও ভারত এখনো কোন চুক্তিতে উপনীত হয়নি তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে শোনা যাচ্ছে ভারত কৃষি পণ্যের রপ্তানিতে নীরবে ৩০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে ইতোমধ্যে আর চীন তো কোন হুমকিকে পাত্তাই দিচ্ছেনা। এটাই হলো “সার্বভৌমত্বের” লড়াই, এটা শুধু আমাদের মত বাগাড়ম্বর করা নয়। সুইজারল্যান্ডের ডোভাসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাম্প্রতিক সভায় ইউরোপের ও কানাডার সরকার প্রধানরা গ্রীনল্যান্ডের উপর মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে এক বাক্যে পুরনো বিশ্বব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে সর্তক করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ কড়া সুরে বলেছেন ইউরোপ কারো গুন্ডামি সহ্য করবেনা। “একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!” দেশে দেশে যখন অপছন্দের জনপ্রিয় শাসকদের বিরুদ্ধে রেজিম চেঞ্জের নামে চিলির আলেন্দে, কঙ্গোঁর লুমুম্বা, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ন, বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু, লিবিয়ার গাদ্দাফি, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে আমেরিকা নির্মম ভাবে হত্যা করে তখন কোথায় ছিল আজকের উদারবাদী গণতন্ত্রের পীঠস্থান পশ্চিম ইউরোপ। তারাই সেদিন প্রথমে এসব ঘৃণ্য কাজকে সমর্থন করেছে। তারা নিজেরাই নির্মম ঔপনিবেশিক নিপীড়ন করেছে আমাদের দেশ সহ এশিয়া আফ্রিকার বহু দেশে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে দীর্ঘ লড়াই দেখেছি। এ সময়ে আরো দেখেছি কমিউনিজম ঠেকানোর নামে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশ্বব্যাপী কুখ্যাত সিআইএ’র চক্রান্তে আতংকিত থাকত এসব দেশে শোষণমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর সমাজের জন্য জীবন নিবেদিত রাজনৈতিক ও সমাজকর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র প্রগতিশীলতা ঠেকাতে এসব দেশে নিরক্ষর ও অশিক্ষিত ব্যাপক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত ও প্রতারিত করতে ধর্মের নামে নানা কিসিমের অন্ধ মৌলবাদী রাজনীতির প্রশ্রয় দিয়েছে, মধ্য প্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দু’একটি দেশের সহায়তায় এদের অর্থ দিয়ে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে। বিশ্বের এই বিশাল অঞ্চলের সমাজজীবনকে, মানবজীবনকে এই চূড়ান্ত মধ্যযুগীয় অধোগতির দিকে নিয়ে যাওয়ার মার্কিনি প্রচেষ্টার সহযোগী পশ্চিম ইউরোপ আজ নিজেই তাদের আগ্রাসী মুরুব্বীর প্রতি অসভ্যতার অভিযোগ আনছে। প্রচলিত বিশ্ব ব্যবস্থা লন্ডভন্ড করে দেয়া ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দুই দফায় শপথ নিয়ে প্রথম যে দেশ সফর করেন তা হল সৌদি আরব। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, সৌদি–ইজরায়েল সম্পর্ক সহজ ও স্বাভাবিক করা, ইসরাইলী হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি আরব যাতে নিশ্চুপ থাকে তার ব্যবস্থা করা এবং তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখা। মার্কিনি পরামর্শে গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার মুখে সৌদি আরব কার্যত নীরবই ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পৃথিবীতে দুটো বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব হয়। একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিম ইউরোপকে নিয়ে নয়া ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা অন্যটি সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপ ও চীন সহ সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা। এ দুই বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলেছে তীব্র উত্তেজনা ও পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা কিন্তু এর ফলে বিশ্বব্যাপী শক্তির ভারসাম্য বজায় ছিল। ফলে আমাদের মত দেশগুলোতে জোর করে বা প্রকাশ্যে জবরদস্তি করা বা আজকের মত কোন দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাবার মত অসভ্য আচরণ করার সাহস তখন আমেরিকার হয়নি। ভিয়েতনাম, কিউবা, লাওস, বাংলাদেশ, মিশর, এঙ্গোলা, মোজাম্বিক এ রকম আরো অনেক দেশের মুক্তিসংগ্রামের বিরুদ্ধে মার্কিন চক্রান্ত ও হুমকিকে ব্যর্থ হয়ে যায়। লজ্জাস্কর পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয় আমেরিকা। আজকের প্রজন্মের কাছে এগুলো গল্পের মত মনে হতে পারে। শুধু ভারত নয়, মূলত সোভিয়েত রাশিয়ার সাহায্য ছাড়া এদেশ যে স্বাধীন হতো না তা দু’একটি বাম দল ছাড়া অন্য কোন দল স্বীকার করেনা। অকৃতজ্ঞ কোন জাতি উন্নতির পথে, মুক্তির পথে যেতে পারেনা। এ ক্ষেত্রে সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়, বর্তমান সময়ের শক্তিশালী চীনের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যথার্থ ভূমিকা পালনে অনীহার কারণে ১৯৯০ এর পরে বিশ্বে আমেরিকা একক পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয় এবং বিশ্বশক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সোভিয়েতের বিপর্যয় ও চীনের অনীহার কারণ এ প্রবন্ধের আলোচনার বিষয় নয় এখানে আলোচনার বিষয় কথিত উদারবাদী গণতন্ত্রের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রচালিত ব্যবস্থার চরম অনৈতিক ও আমানবিকতার স্বরূপ ও বর্বর ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানে আপাত নিরীহ বৃটেন–ফ্রান্সের দুর্বল হয়ে পড়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আজ্ঞবহ সমর্থকের ভূমিকা পালন করে এখন হাস্যকর প্রতিবাদী হওয়ার গল্প। এ গল্পের নির্যাস ১৯১২ সালে লেনিনের Development of Capitalism in Russia গ্রন্থে পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন সাম্রাজ্যবাদ তথা পুঁজিবাদের অসম বিকাশ হল পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ সংকটের মূল কারণ। বস্তুত এই সংকটের কারণে গত শতাব্দীতে দুটো প্রলয়ংকরী বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে যার কারণে সে ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, ভেঙে পড়ে মূলত পশ্চিম ইউরোপ নিয়ন্ত্রিত ঔপনিবেশিক বিশ্ব ব্যবস্থা। উঠে আসে দুই যুদ্ধে প্রায় অক্ষত, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ, সস্তা শ্রম শিল্পে উন্নত বিশাল পুঁজিবাদী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনীতিতে, সামরিক শক্তিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সে পুঁজিবাদী বিশ্বের নেতৃত্ব দখল করে। অন্ত্র ব্যবসার রমরমা বাণিজ্যে ফুলে ফেঁপে উঠে তার অর্থনীতি। অনেকটা স্থায়ী ভাবে পিছিয়ে যায় এককালের পুঁজিবাদের পীঠস্থান বৃটেন ও ফ্রান্স। নবতর এক অসম বিকাশের ধারায় আটলান্টিকের দুপাড়ে গড়ে উঠে দুই ধরনের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। এখন সে পার্থক্য পূর্ণ বিকশিত হয়ে নিজেদের দীর্ঘ সম্পর্ক ভেঙে দিচ্ছে। পুঁজিবাদ ফিরে যাচ্ছে যেন এক ফ্যাসিবাদী রাজতন্ত্রে। যার বরপুত্র ট্রাম্প, যিনি বলছেন তাঁর সিদ্ধান্ত সব আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে। আর এদেশে আমরা হাবি খাচ্ছি একাত্তরের রক্তে প্রত্যাখ্যাত ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের মধ্যযুগীয় গণতন্ত্রহীনতায়, সদ্যনির্মিত আত্মপরিচয়ের সংকট ও সাম্প্রদায়িকতার আবর্তে, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আমেরিকার প্রতি অন্ধ আনুগত্যে। দুর্বিনীত এই প্রতিক্রিয়ার শক্তিকে রুখতে পারে নিত্য জীবনযাপনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার দুর্বিপাকে নিপতিত শুধু শ্রেণী সচেতন মেহনতী সাধারণ মানুষ। পরিবর্তনের জন্য শেষ পর্যন্ত আমাদের জীবনের ওপর বিশ্বাস রেখে যেতে হবে মানুষের কাছে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট।











