ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, সময়সীমা অনির্দিষ্ট

গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনা, ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

| শুক্রবার , ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং ওই বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যবহার হবে, সেটিও তারাই নির্ধারণ করবে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এ ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ বুধবার জানায়, তারা ইতোমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে ভেনেজুয়েলার তেল বিপণন শুরু করেছে। তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জমা হবে। বিভাগটি জানায়, এই তেল বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল চলবে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও তেল বিক্রির অর্থ কীভাবে খরচ হবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভেনেজুয়েলা সম্মত হয়েছে, এই অর্থ দিয়ে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যই কিনবে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, আমি মাত্রই জানতে পেরেছি, আমাদের নতুন তেল চুক্তি থেকে যে অর্থ ভেনেজুয়েলা পাবে, তা দিয়ে তারা শুধুমাত্র আমেরিকান তৈরি পণ্য কিনবে। তিনি আরও বলেন, এই কেনাকাটার মধ্যে থাকবে আমেরিকান কৃষিপণ্য, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ওষুধ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় হামলা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মাত্র কয়েকদিন পরই এই ঘোষণা এলো। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্র আগেই বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলাকে কার্যত চালাবে এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেবে। মঙ্গলবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, কারাকাস ওয়াশিংটনের হাতে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল তুলে দেবে। খবর বাংলানিউজের।

তিন ধাপের পরিকল্পনা : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্প প্রশাসন একটি তিন ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রথম ধাপ হলো তেল বিক্রি। দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য কোম্পানিকে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপে রাজনৈতিক রূপান্তর লক্ষ্য।

জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞও সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলাকে ‘চালানো’ এবং দেশটির তেলসম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান জনগণের স্বনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মূল ভিত্তির পরিপন্থী।

গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক শক্তি ব্যবহার নয়, বরং ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার দিকেই আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের কথা ভাবছেন না। বরং দ্বীপটি কেনার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, গ্রিনল্যান্ড কেনা ট্রাম্পের জন্য একটি বড় লক্ষ্য। বিশেষ করে উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষ শক্তির প্রভাব ঠেকাতেই এই আগ্রহ। তিনি আরও জানান, দেশের প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সবসময়ই থাকে।

এদিকে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশেরই উচিত নয় আরেক সদস্য দেশকে হুমকি দেওয়া বা আক্রমণ করা। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ন্যাটো জোট কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেনও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, সেটিই হবে ন্যাটোর শেষ। ন্যাটোভুক্ত একটি দেশ আরেকটি সদস্য দেশকে আক্রমণ করলে পুরো জোট ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে তার দেশকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ অনুমোদিত সংস্থাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পরিপন্থি যেকোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা, সমঝোতা ও চুক্তি থেকে সরে আসতে বুধবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। আমেরিকা বলছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো হয় অপ্রয়োজনীয় অথবা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে।

হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ফ্যাক্ট শিট বা তথ্যপত্র অনুযায়ী, এই সংস্থাগুলোর মধ্যে ৩১টি জাতিসংঘ অনুমোদিত সংস্থা এবং ৩৫টি জাতিসংঘের বাইরের সংস্থা যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাজ করে।

সব সরকারি বিভাগ এবং সংস্থাগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব এই সংস্থাগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এ সংস্থাগুলোর তালিকায় ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সও রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভারত ও ফ্রান্সের একটি যৌথ উদ্যোগ এটি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসেন্টমার্টিনে এক জালে ৬৮৭ লাল কোরাল, ১০ লাখে বিক্রি
পরবর্তী নিবন্ধখালেদা জিয়ার নামে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সড়কের নামকরণ