কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে ৬৫ কড়া জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে এক পক্ষ শরণাপন্ন হয় বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতিতে। এ নিয়ে সমিতি কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকে নিয়ে কার্যালয়ে সালিশি বৈঠকে বসে। কিন্তু দুই পক্ষের লোকজন সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে এক পক্ষের লোকজন ধারালো দা দিয়ে অপর পক্ষের লোকজনকে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই হামলায় চারজন গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন বদন (৪০) নামে একজন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অপর তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।
নিহত জয়নাল আবেদীন বদন বদরখালী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের টুটিয়াখালী পাড়ার আবদুস ছোবহানের পুত্র। আহতরা হলেন নিহতের ভাই ওসমান গণি (২৬), মোহাম্মদ এহেছান (৩৭) ও তাদের ভাইপো আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ সাগর (২৫)। এদের মধ্যে ওসমান গণির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. তফিকুল আলম আজাদীকে জানান, ৬৫ কড়া জমি নিয়ে আবদুল জলিল ও আবদুল কাদেরের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে বাদী–বিবাদীকে নিয়ে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতিতে সালিশ বৈঠকে বসে সমিতির নেতৃবৃন্দ। কিন্তু সালিশ চলাকালে সমিতি কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে এবং হামলার ঘটনা ঘটে।
চকরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, জমির বিরোধ নিয়ে সমিতির কার্যালয়ে সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার এবং ময়না তদন্তের জন্য নিহতের লাশ কঙবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করা হবে।
বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সভাপতি নুরুল আলম সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন জনি দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক চলছিল। একই সময়ে উভয় পক্ষের লোকজন সমিতির কার্যালয়ের বাইরে রাস্তায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় জড়িতদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ : জয়নাল আবেদীন বদন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে গতকাল সন্ধ্যার দিকে বদরখালী ইউনিয়নের খালকাচা পাড়ায় যায় চকরিয়া থানার পুলিশের একটি দল। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত আবদুল জলিলের ছেলে মো. সাগর ও ছোটনসহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এই অবস্থায় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও ধারালো দাসহ আটক করা হয় সাগরকে। গুলিবিদ্ধ সাগরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
চকরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি গত রাতে আজাদীকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে খালকাচা পাড়ায় অভিযানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে সন্ত্রাসীরা। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।








