ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ চেষ্টা, গ্রেপ্তার শাহ আলম রিমান্ডে

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২০ জুলাই, ২০২২ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

মীরসরাই ইকোনমিক জোন প্রকল্পের সাড়ে তিন একর জমির দলিলপত্র জাল-জালিয়াতি করে অধিগ্রহণের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহ আলমকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার চরসোনাপুর এলাকার মোরহিমুল্লাহর ছেলে। গতকাল অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিম তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান আজাদীকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত রোববার এলএ শাখার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) সার্ভেয়ার, অফিস সহকারী ও এলএওসহ মিলে হাতেনাতে জালিয়াত চক্রের সাথে জড়িত এ যুবককে আটক করে কোতোয়ালী থানায় সোপর্দ করেন।

জেলা প্রশাসস সূত্র জানায়, আমোক্তার নিযুক্ত না হয়েও নিজেকে আমোক্তার দাবি করেন এবং জাল-জালিয়াতি করে দলিলও সৃজন করেন শাহ আলম। একপর্যায়ে অধিগ্রহণের টাকা পেতে আবেদন করেন। সন্দেহ হলে তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হয় এবং জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে কথা বলা হয়। তারা জানাই, অধিগ্রহণের টাকা পেতে তারা কাউকে আমোক্তার নিযুক্ত করেননি। মূলত দুই ব্যক্তির সহযোগীয় শাহ আলম এসব জাল-জালিয়াতি করেছেন। তাদেরকেও খোঁজে বের করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলএ শাখা সূত্র জানায়, এলএ মামলা নম্বর ১৩/১৭-১৮, বিএস খতিয়ান নম্বর ৩৬৭, বিএস দাগ নম্বর ১০৮৭ম, মৌজা-দক্ষিণ মঘাদিয়া সংশ্লিষ্ট উক্ত জমির প্রকৃত রেকর্ডীয় মালিক খায়রুল বশর। মৃত্যুকালে তিনি জাহান রীনা, সাইফুল ইসলাম, শামসুর নাহারসহ মোট ৫ জন ওয়ারিশ রেখে যান। এদের সাথে কোনোভাবেই আটক শাহ আলমের সম্পর্ক নেই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনিই সংশ্লিষ্টদের এ কথা জানিয়েছেন। যদিও প্রথমদিকে তিনি রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারিশদের আমোক্তার নিযুক্ত ব্যক্তি বলে দাবি করেছিলেন। বলেছেন, ওয়ারিশরা দেশের বাইরে থাকেন। তাই তাকে আমোক্তার নিযুক্ত করেছেন।

এলএ শাখা সূত্র আরো জানায়, শাহ আলমের কাছ থেকে অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের আবেদন পেয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার আমমোক্তার নিযুক্ত বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত হতে যাচাই বাছাই কার্যক্রম সম্পাদন করেন। যাচাই বাছায়ের পর আমমোক্তার দলিলটি সন্দেহজনক প্রতীয়মান হলে তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এলএ) বিষয়টি অবহিত করেন। একপর্যায়ে এলএ’র নির্দেশে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণকালে আমমোক্তার নিযুক্ত সংক্রান্ত বিষয়ের সত্যতা মেলেনি। দলিলটি জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সৃজিত হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক মানুষ দিল টিকা
পরবর্তী নিবন্ধশাহ আমানতে সিগারেটসহ ৩৫ লাখ টাকার স্বর্ণের বার উদ্ধার