শক্তিশালী ভূমিকম্পে মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পের তীব্রতায় কেঁপে ওঠে পাশের দেশ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককও। সেখানে ৩০ তলা একটি ভবন পুরোটা ধসে পড়েছে। সেটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে।
ভূমিকম্প–বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারে গত ২০ বছরের মধ্যে এত তীব্র ভূমিকম্প আর দেখা যায়নি। মিয়ানমার জান্তা জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী দেশটিতে কমপক্ষে ১৪৪ জন মারা গেছে। আহত অন্তত ৭৩২ জন। প্রশাসন জানিয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)। ইউএসজিএসের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যে মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, তাতে আমরা ধারণা করছি যে মিয়ানমারের বিস্তৃত অংশজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’ অপরদিকে, ব্যাংককে নির্মাণাধীন ভবন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিন প্রাথমিকভাবে বলেছিল, নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবন ধসের ঘটনায় ৪৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন। পরে থাইল্যান্ড সরকারের তরফে জানা যায়, অন্তত ৮১ জন আটকা পড়েছেন। ধসের সময় সেখানে প্রায় ৩২০ জন কর্মী ছিলেন। প্রসঙ্গত, ভূমিকম্পের উৎসস্থল থেকে ব্যাঙ্ককের দূরত্ব অন্তত ৯০০ কিলোমিটার। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড ছাড়াও এ ভূমিকম্প চীন, ভারত ও বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে।
মিয়ানমারের সবথেকে বড় শহর ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, হঠাৎ দেখি ভবন মারাত্মকভাবে দুলছে। কাঁপাকাঁপি প্রায় তিন থেকে চার মিনিট চলে। বন্ধুদের কাছ থেকে মেসেজ পাচ্ছিলাম। দেখলাম কম্পন শুধু ইয়াঙ্গুন নয়, দেশের অনেক এলাকাতেই হয়েছে।
গৃহযুদ্ধে বর্তমানে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। তার মধ্যে এই ভূমিকম্প বিপত্তি বৃদ্ধি করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী নেপিদ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, প্রথম কম্পনটি হয় বাংলাদেশ সময় সকাল ১২টা ১০ মিনিটে। তার পর আরও পাঁচটি কম্পন অনুভূত হয়েছে। চলেছে আফটারশক। সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নেপিদর হাসপাতালগুলিতে উপড়ে পড়েছে ভিড়। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক হাসাপাতালের জরুরি বিভাগই ভূমিকম্পের জেরে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসকেরা হাসপাতালের বাইরে এসে রোগীদের চিকিৎসা করছেন। মন্দালয় শহরে ভেঙে পড়েছে একের পর এক বাড়ি। সেখানে এখনও আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। ইরাবতী নদীর ওপর ভেঙে পড়েছে একটি আইকনিক সেতু।
অবশ্য ভূমিকম্প মিয়ানমারে নতুন নয়। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে সে দেশে সাত বা তার বেশি মাত্রার ছ’টি ভূমিকম্প হয়েছিল। গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের জান্তা সরকার অনেক এলাকায় পৌঁছোতে পারেনি। যে যে এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে, সেখানে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কেমন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই এলাকাগুলিতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।