ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:১১ পূর্বাহ্ণ

ছুটির দিনের দুপুরে সাতক্ষীরার কাছে ভারতবাংলাদেশ সীমান্তে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ, যা অনুভূত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তর ইউএসজিএস বলছে, গতকাল শুক্রবার বেলা ১টা ৫২ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৩। বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকায়। সাতক্ষীরা জেলা সদর থেকে ওই এলাকা ২৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দক্ষিণদক্ষিণ পূর্বে। আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টাকি থেকে ২৬ দশমিক ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে। খবর বিডিনিউজের।

মাঝারি মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে। যে সময় কাঁপুনি শুরু হলো, তখন অনেক মসজিদে জুমার নামাজ চলছিল। বাসায় যারা ছিলেন, তারাও অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গেও বেশ ভালো কাঁপুনি অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, কলকাতায় অনেকেই আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য মেলেনি। এর আগে গত বুধবার রাতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে।

ঢাকাকলকাতা কাঁপানো ভূমিকম্প কী বার্তা দেয় : বিবিসি বাংলা জানায়, উৎপত্তিস্থল আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুজ্জামান হিমু জানান, আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নে দুটি মসজিদ ও একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ফাটলের খবর পাওয়া গেছে। আর দুটি কাঁচা ঘর হেলে পড়েছে। তবে এর বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সবশেষ এই ভূমিকম্প নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয় দশমিক আট কিলোমিটারকে মাটির খুব বেশি গভীরে বলা যায় না। সাতক্ষীরার এই জায়গাটি ঠিক আগে থেকে যেসব ফল্টলাইনের তথ্য ছিল তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, নতুন করেও ফল্ট তৈরি হতে পারে। সেখানে ১০১৫ বছর আগেও পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ভূগর্ভে ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে আগে থেকেই যে কথা বারবার বলা হয়েছে তারই একটি অংশ এবারের ভূমিকম্প। ভারতীয় প্লেটটা যে পূর্বদিকে বার্মা প্লেটের নিচে সাবডাক্টেড হয়ে যাচ্ছে, সেখানে একটা টান তৈরি হচ্ছে, টেনশন তৈরি হচ্ছে। সেই কারণে এই ভূমিকম্পের সৃষ্টি।

তবে এখানে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কম বলে জানান হুমায়ুন আখতার। কারণ এটি যে তিনটি বড় সাবডাকশন জোনের সংযোগস্থল রয়েছে, তার চেয়ে বেশ দূরে। তিনি বলেন, একটা রাবারকে যদি দুই দিক থেকে টানতে থাকেন তাহলে একটা সময় মাঝখানে ছিঁড়ে যাবে। এখানে ঘটনাটা সেটাই হয়েছে। ইন্ডিয়ান প্লেট পশ্চিমের যে শিল্ড (সীমারেখার জায়গা), সেটাকে পশ্চিমের হিউজ মাস টেনে ধরে রাখছে। আর পূর্ব প্রান্তে বার্মা প্লেটের নিচে এটা (শিল্ড) চলে যাচ্ছে। এই যে টেনে ধরে নিচের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাতে টেনশনাল ফোর্স তৈরি হচ্ছে।

তার মতে, এখানে ৫ বা ৫.৫ বা তার নিচে ভূমিকম্প হতে পারে। কিন্তু সেটা খুব উদ্বেগের বিষয় না। বরং ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রাম বরাবর পাহাড়ি অঞ্চল যেটিকে সাবডাকশন জোন বলা হয়, সেটাই সবচেয়ে উদ্বেগের। এটা হচ্ছে উৎস যেখানে প্রচুর পরিমাণে শক্তি জমা হয়ে আছে। এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার জানিয়েছিলেন, সেখানে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূকম্পন তৈরির মতো শক্তি জমা হয়ে আছে, যেটা কোনো না কোনো সময় বের হয়ে আসবেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখলে ইসরায়েলি আইনের তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের
পরবর্তী নিবন্ধজীবনকে দ্যুতিময় করতে কোরআন মজিদের নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন