‘ভিক্ষুক’ শব্দটি শুনলেই মনের মধ্যে এক সময়ে সাধারণত অতি দরিদ্র, রুগ্ণ, অন্ধ, পঙ্গু, পরণে ছেড়া জামা কাপড় এ ধরনের মানুষের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠতো কিন্তু বর্তমান যুগের ভিক্ষুকদের মাঝে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এদের মধ্যে অধিকাংশের পরনে মোটামুটি ভালো জামা–কাপড়ের পাশাপাশি পকেটে মূলবান মোবাইল এবং বাসায় বা ব্যাংকে অর্থও জমা থাকে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে উন্নয়নশীল দেশের ন্যায় বন্দর নগরীকে ভিক্ষুক মুক্ত করার জন্য কর্ম অক্ষম বেশ কিছু ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কয়েক বছর পূর্বে চাকরি দেয়া হলেও চাকরির তুলনায় ভিক্ষা পেশায় আয় বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে অধিকাংশই সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে মর্মে জানা গেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, একবার ভিক্ষা পেশায় আত্মনিয়োগ করার পরে অতীব লোভের কারণে সহজে এ পেশা পরিত্যাগ করা সম্ভব হয়না।
আমাদের দেশের ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন–২০২০’ এর ২০ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, ‘যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি বা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন শিশুর হাত–পা–চক্ষু বা অন্য কোন অঙ্গ বিনষ্ট করেন বা অন্য কোন ভাবে বিকলাঙ্গ বা বিকৃত করেন, তা হলে উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।’ অন্যদিকে ‘শিশু আইন ২০১৩’ এর ৭১ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, ‘কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন বা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর তত্ত্বাবধায়ক বা দেখা শুনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি যদি ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে আশ্রয় দান করেন বা উৎসাহ প্রদান করেন, তা হলে তিনি এ আইনের অধীন অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’ তবে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে আমাদের দেশে বিভিন্ন আইন থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভিক্ষুকের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই প্রকৃত ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনপূর্বক এ পেশায় নিয়োজিত অন্যদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এমন ঘৃণিত পেশাকে নিরুৎসাহিত তথা বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।












