ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা

আজাদী ডেস্ক | বুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ভাষা আন্দোলনে ঢাকা ছিল সমস্ত আন্দোলন সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু। ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল ঢাকা। ঢাকা থেকে পরিচালিত ভাষা আন্দোলন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের সমস্ত জনপদে। ১৯৪৭ সালের মে এবং জুলাই মাসে পৃথক দুটি প্রস্তাবে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও খলীকুজ্জমান। সে বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের মানুষের ইসলামিক চেতনা শক্তিমান করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয় তমদ্দুন মজলিস। তমদ্দুন মজলিস সহসাই বাংলা ভাষা আন্দোলনে রেখেছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু?’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করে। প্রকাশিত বইয়ে লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ এবং অধ্যাপক আবুল কাসেম বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অধ্যাপক আবুল কাসেম তুলে ধরেন কিছু সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনাও।

বাংলার বুদ্ধিজীবীদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর করাচিতে এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হঠকারী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৬ ডিসেম্বর বেলা ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলায় অধ্যাপক আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী, এ কে এম আহসান, কল্যাণ দাসগুপ্ত প্রমুখ। সভা শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সেটিই ছিল সর্বপ্রথম প্রতিবাদ মিছিল।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবি জানিয়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত একটি সংশোধিত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তখন তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে গণপরিষদের মুসলিম লীগের সদস্যরা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। খাজা নাজিমুদ্দিন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তৃতায় বলেন, ‘পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ চায় রাষ্ট্রভাষা উর্দু হোক।’ মুহূর্তেই গর্জে উঠে ঢাকার ছাত্রসমাজ। ১৯৫২ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন। ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকার ছাত্রসমাজ। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ২৯ এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ৩০ জানুয়ারির এক সভায় ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক সরকার পরদিন থেকে পরবর্তী ১ মাস ঢাকা শহরে সমস্ত সভা সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভা। সভায় ১১৩ ভোটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের পৃথক সভায় ছাত্রনেতারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরমজানের আগে বাড়ছে মাংস ও সবজির দাম
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬