১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষার মিছিলে আমাদের দুঃসাহসী নারীরা হয়ে উঠেছিল দুর্দান্ত ছাত্রদের সহচর। যাদের অসীম সাহসিকতায় ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেয়েরা সহজে মিছিলে অংশ নিতে সামান্য দ্বিধাবোধটুকুও করেনি।
‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রীরাও গর্জে ওঠেছিলো সেদিন। বাংলা মায়ের অস্তিত্ব বিরোধী পাটাতনে দাঁড়িয়ে নারীরা সেদিন ১৪৪ ধারার কঠোর শৃঙ্খল ভাঙার পক্ষ সমর্থন করেছিলেন এবং মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন; তাদের অংশগ্রহণ করার এই কঠিন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয় কঠোর প্রত্যয়ী ছাত্রদের সহযোগিতায়।
২১ ফেব্রুয়ারিতে সকলে সমবেত হতে লাগলো রাজপথে আর স্লোগান দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’। ছাত্রদের সাথে ছাত্রীরাও দলভুক্ত হয়ে স্লোগান দিতে দিতে বের হয়ে গেল। নারীদের নেতৃত্ব দানকারী নারীরা ছিলেন হালিমা খাতুন, সাফিয় খাতুনসহ আরও কয়েকজন জন ঢাকা ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ছাত্রী। নারী নেত্রীগণ প্রত্যেকে প্রথমে তাদের সাথে তিনজন করে সাধারণ ছাত্রীদের নিয়ে মোট চারজন, আটজন করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে মিছিলে যোগ দেন। এরপর শুরু হয়ে গেলো পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ। এসময় ছাত্রদের সাথে ছাত্রীরাও ভয়কে জয় করে মৃত্যুর পরোয়া না করে মিছিলে এগুতে থাকে। মেয়েরা কাঁদানে গ্যাসের বিষাক্ততায় চোখ খুলতে পারছিলো না। তখন তারা এক পর্যায়ে দৌঁড়ে কোনরকমে ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবার মিছিলে যোগ দেন। মিছিল থেকে পুলিশেরা ধড় পাকড় শুরু করে দিল। এর মধ্যে ছাত্রদের সাথে বেশ অনেকজন ছাত্রীও গ্রেপ্তার হন। আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, গান করি। এ ভাষায় দখলদারিত্বে আমাদের রক্তে রাঙানো ভাইদের সাথে বোনেরাও অংশীদার হয়ে আছেন। তারা কত সাবলীলভাবে ভাইদের সাথে নিজেকে রাজপথে সঁপে দিলেন! মহান একুশের, ভাষা দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি থাকলো শহীদ ভাইদের সাথে আন্দোলনে নিয়োজিত, অস্তিত্ব সঁপে দেওয়া আমাদের আপুদের জন্যও।












