ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ

আইসিসির আল্টিমেটাম পাওয়ার খবর ওড়িয়ে দিল বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অনড় আছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এই অবস্থান আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ বোর্ডের পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের মর্যাদাএটার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না। আমরা ক্রিকেট খেলতে চাই, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আরেকটা যে আয়োজক দেশ আছে শ্রীলংকা, আমরা সেখানে খেলতে চাই। তিনি আরো বলেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে আমরা অনড় আছি। আমরা কেন অনড় আছি আশা করি সেটা আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হব। এর আগে বিসিবি ভারতে খেলোয়াড় এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অন্যদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছিল। চিঠিতে ভারতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে আয়োজনের অনুরোধ করা হয়। বিসিবির ইমেইলের জবাবে আইসিসি পাল্টা ইমেইল দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ যে শঙ্কা প্রকাশ করছে, সে রকম কোনো শঙ্কার কারণ নেই। আইসিসির পক্ষ থেকে ভারতে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা দিতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ইমেইলে।

তবে আইসিসির এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আজকে আমরা আইসিসি থেকে যে চিঠিটা

পেয়েছি, সেই চিঠি পড়ে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ভারতে যে প্রচণ্ড একটা নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য, সেটা তারা রিয়ালাইজ করতে সক্ষম হয়নি। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু না, এটা জাতীয় অবমাননা ইস্যু। যাই হোক আমরা নিরাপত্তা ইস্যুটাকেই মুখ্য করে দেখছি।

মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ভারতে যে খেলার মতো পরিস্থিতি নেই, এটাই তা প্রমাণ করে। আজকালের মধ্যেই আবারও ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে বিসিবি আইসিসিকে ইমেইল করবে। তিনি বলেন, আশা করি আমরা আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হব এবং আইসিসি আমাদের যুক্তিগুলো নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করে আমরা কষ্ট করে যে অর্জনটা করেছি, সেই টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের খেলার সুযোগ করে দেবে। আমাদের প্রথম অবস্থান হচ্ছে আইসিসিকে বোঝানো। আমাদের যথেষ্ট শক্ত যুক্তি আছে। সেই যুক্তি দিয়ে আমরা আইসিসিকে বোঝাব।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, তাদের এই শক্ত অবস্থানের মূলে আছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের সম্মান আর বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্ন; যার সঙ্গে তারা আপস করতে চান না। তবে তিনি বলেছেন, আমরা অবশ্যই ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে চাই। তারপরে পরবর্তী পরিস্থিতি যা হবে, সেটা নিয়ে আবার আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। এখন পর্যন্ত আমরা এই সিদ্ধান্ত খুব স্পষ্টভাবে নিয়েছি যে আমরা আইসিসিকে বোঝাব, আমাদের ভারতে খেলার মতো পরিবেশ নেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারত সফরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে বলে জানিয়েছেন। বুলবুল বলেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বিসিবি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এর বাইরে রয়েছেন সাংবাদিক, স্পনসর এবং হাজার হাজার সমর্থক। বিদেশ সফরের জন্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই আমরা সরকারের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে আমরা আমাদের অধিকার আদয়ের জন্য লড়াই করব।

এর আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, নইলে ছেড়ে দিতে হবে পয়েন্টআইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবিকে এমন কথা জানানো হয়েছে বলে যে খবর তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে বিসিবি। বরং বাংলাদেশকে নিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় তারা এবং বিসিবির নিরাপত্তা শঙ্কার জায়গাগুলি আইসিসি জানতে চেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন। দুই ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার এক অনলাইন সভায় বিসিবিকে আল্টিমেটাম দিয়েছে আইসিসি। তবে আমজাদ বললেন, কোনো অনলাইন সভা হয়নি। তিনি জানান, আমাদেরকে একটি ইমেইল করেছে আইসিসি। সেখানে তারা বলেছে যে, আমাদেরকে নিয়েই তারা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায়। তারা উল্লেখ করেছে যে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তারা চূড়ান্ত করছে এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কার জায়গাগুলি তারা জানতে চেয়েছে। আমরা আজকে সেটির উত্তর দেব এবং আমাদের দুর্ভাবনার জায়গাগুলি জানাব। কোনো অনলাইন সভা হয়নি। যেসব খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজকসুতেও জয় শিবিরের
পরবর্তী নিবন্ধমৃত্যুতেও পাশাপাশি দুই বন্ধু