ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে?

হাসান আকবর | রবিবার , ২৩ জুলাই, ২০২৩ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ডলারের পরিবর্তে ভারতীয় মুদ্রা রুপিতে এলসি খোলা শুরু হওয়ায় দুই দেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর প্রতিবেশী দুই দেশের এই উদ্যোগ ব্যবসাবাণিজ্যে গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ডলার সংকটে প্রায় থমকে যাওয়া অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। তবে ঠিক কতদিন এই উদ্যোগ চালু থাকবে তা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর শত শত কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। বিশ্বের নানা দেশে বিপুল পরিমাণ পণ্যও রপ্তানি করা হয়। আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণে সমতা না থাকায় বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রচুর। সাম্প্রতিক এক হিসেবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছিল প্রথম ১১ মাসে। একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৭৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৭১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ১৭ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। টাকার অংকে যা প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।

বিপুল এই বাণিজ্য ঘাটতি এবং বৈশ্বিক সংকটে দেশে ডলার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। টাকা দিয়েও ডলার না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা দেয় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। দ্রুত কমে যেতে থাকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। শর্ত মেনে আইএমএফ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ নিতে হয় সরকারকে। সংকটের মাঝে ডলারের পাশাপাশি টাকা ও রুপিতে পণ্য আমদানিরপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেয় ভারত ও বাংলাদেশ সরকার। বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ আলোচনা হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর অবশেষে স্থানীয় মুদ্রায় এলসি খোলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে রুপিতে এবং বাংলাদেশ থেকে টাকায় এলসি খুলে পণ্য আমদানি শুরু করেছেন। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দেশের পক্ষে বিষয়টির দেখভাল করছে।

বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে প্রচুর পণ্য আমদানি করে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রকট। সাম্প্রতিক এক হিসেবের উদ্ধৃতি দিয়ে সূত্র বলেছে, গত বছর ভারত থেকে ১ হাজার ৬১৯ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ২শ কোটি ডলারের কম পণ্য। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৪১৯ ডলার। বিশাল এই ঘাটতির মাঝে দুই দেশই যদি স্থানীয় মুদ্রায় আমদানিরপ্তানির কার্যক্রম পরিচালনা করে তাতে উভয় দেশেরই ব্যবসাবাণিজ্যে গতি আসবে। কমে আসবে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি। বাংলাদেশি নানা পণ্যের বাজার সৃষ্টিতেও বৈদেশিক বাণিজ্যের এই ‘সহজীকরণ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

তবে এই ‘সহজীকরণ’ কতদিন চালু থাকবে তা নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি টিকে গেলে দুই দেশই লাভবান হবে বলে মন্তব্য করে বলা হয়েছে, বিষয়টির মধ্যে দুই দেশেরই ‘কমন ইন্টারেস্ট’ রয়েছে।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঠিক কতদিন চলবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রচুর। ভারত বাংলাদেশে অন্তত ১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাংলাদেশ রপ্তানি করে দুই বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ভারত নিশ্চয় এতগুলো ডলারের পরিবর্তে টাকা নিয়ে ব্যবসাবাণিজ্য করবে না। তাই বিষয়টি ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করবে। তবে দুই দেশ যদি স্থানীয় মুদ্রায় ঠিকভাবে ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারে তা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাবে।

ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মু সিকান্দর খান বলেন, বিষয়টির ভবিষ্যৎ সময়ই বলে দেবে। বর্তমানে দুই দেশেরই ডলার সংকট রয়েছে। দুই দেশের কমন ইন্টারেস্ট রয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোতে ভারত বিষয়টিতে কতটুকু আগ্রহী থাকবে তা সময়ই বলে দেবে। ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এটি দারুণ উদ্যোগ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতে বর্তমানে ব্যবসাবাণিজ্যের যে সংকট তাতে ভালোই গতি আসবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রতি কেন্দ্রে ১৬, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জনের ফোর্স
পরবর্তী নিবন্ধসেনাবাহিনী কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে