ভারতের সাথে ড্র করে গ্রুপ রানার্স আপ বাংলাদেশ

সেমিতে প্রতিপক্ষ নেপাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক | রবিবার , ২৯ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সাফ অনূর্ধ্ব২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। গ্রুপ সেরা হতে দরকার ছিল ভারতের বিপক্ষে জয়। কিন্তু শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে নিলেও পরে জয়সূচক গোলের দেখা আর পায়নি বাংলাদেশের ছেলেরা। ফলে গ্রুপ রানার্স আপ হয়েই সাফ অনূর্ধ্ব২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ চারে খেলবে তারা। মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল শনিবার ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ১১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। দুটি গোলই হয়েছে খেলার প্রথমার্ধে। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩০ গোলে জিতে আসরে যাত্রা শুরু করেছিল ভারত। ফলে একটি করে জয় ও ড্রয়ে পয়েন্ট সমান ৪ করে হলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে ভারত হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ হয়েছে গ্রুপ রানার্স আপ।

গতকাল বাংলাদেশভারত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই শুরু থেকে জমে ওঠে। বাংলাদেশ ক্রমশ চাপ দিতে থাকে ভারতের রক্ষণে। দ্বাদশ মিনিটে কর্নারে আশিকুর রহমানের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। তাতে করে বঞ্চিত হতে হয় বাংলাদেশকে। এদিকে খেলার ধারার বিপরীতে সপ্তদশ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ভারত ()। কর্নার থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন বিশাল যাদব। যোগ করা সময়ে জদ্রিক আব্রামচান্সের প্লেসিং শট লক্ষে থাকেনি। ফলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিতে পারেনি ভারত। বেঁচে যায় বাংলাদেশ। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে যোগ করা সময়ের শুরুর দিকে ভারতের গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দী লালকার্ড দেখেন। এর একটু পরই সমতার স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের তাঁবুতে। রোনান বেঞ্জামিন সুলিভানের কর্নারে দূরের পোস্টে থাকা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম নিখুঁত প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন ()। দ্বিতীয়ার্ধেও দু’দলের লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। ৬৩তম মিনিটে বাংলাদেশের ত্রাতা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জায়গা করে নেওয়া ওমাং দুদু শট নেওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে হাত বাড়িয়ে বল কর্নার করে দেন তিনি। নিশ্চিত আরেকটা গোল থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। একটু পর ভারতের স্যামসনকে বক্সের ঠিক ওপর থেকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফাহিম। ওমং দুদুর ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালে লেগে পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। সেই কর্নার ফিরিয়ে ম্যাচে টিকে থাকে বাংলাদেশ। ৮৭তম মিনিটে রোনানের শট পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। বাকি সময়ে চেষ্টা করেও বাংলাদেশ পায়নি জয়সূচক গোলের দেখা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১ এপ্রিল বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নেপালের। গতকাল বাংলাদেশের খেলা দেখতে মালদ্বীপে প্রচুর বাংলাদেশি প্রবাসী জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মাঠে হাজির ছিলেন।

বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে মাঠে গড়িয়েছে সাতবার। ভারত চার বার, নেপাল দুই এবং বাংলাদেশ একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব২০ ক্যাটাগরিতেই নেপালকে ৪১ গোলে উড়িয়ে সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিঙ্গাপুর ম্যাচে নির্ভার থেকে সেরা ফল তুলে আনাই লক্ষ্য
পরবর্তী নিবন্ধমাসিক ভাতার প্রথম তালিকায় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ