ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগের নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

| রবিবার , ১৯ জুন, ২০২২ at ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

ভারতে মোদীর সরকার সেনাবাহিনীতে লোক নিয়োগ পদ্ধতির সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভ এখন দেশটির নানা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তেলেঙ্গানা উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিক্ষোভ মিছিল, দোকানপাট ও ট্রেন-বাসে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। সেকান্দরাবাদ শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং আহত হয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভকারীরা বলছে, সরকার এই পরিকল্পনা বাতিল না করা পর্যন্ত তারা থামবে না। ভারতের নানা রাজ্যের তরুণ-যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের একটি বড় সুযোগ হচ্ছে সেনাবাহিনীর চাকরি।

তারা মনে করেন, সৈনিকের চাকরি তাদেরকে নিয়মিত আয়, সামাজিক সম্মান, অবসরের পর পেনশন, এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তির উপায় এনে দিয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই সেনা বাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ। এর মধ্যেই ভারতের বিজেপি সরকার পরিকল্পনা করেছে যে সামরিক বাহিনীতে সৈনিকদের আর স্থায়ী চাকরি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে না।

তার পরিবর্তে একেকজন সৈন্যকে নিয়োগ করা হবে চার বছরের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য। এই প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘অগ্নিপথ’। এর আওতায় প্রথম দফায় ৪৬ হাজার সেনা নিয়োগ দেয়া হবে। চার বছরের মেয়াদ শেষ হবার পর এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মাত্র এক চতুর্থাংশকে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীতে রেখে দেয়া হবে – বাকিদের সৈনিক জীবন শেষ হয়ে যাবে। ভারতের সরকার বলছে, সামরিক বাহিনীর বেতন ও পেনশনের জন্য সরকারকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় তা কমানোর জন্যই এ পরিকল্পনা।

‘অগ্নিপথ’ নিয়ে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি উঠেছে তা হলো- চার বছর সৈনিক জীবন শেষে যারা সামরিক বাহিনী থেকে বিদায় নেবে এর পর তাদের কী হবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধজ্বালানি সংকটে এবার শ্রীলঙ্কায় বন্ধ হলো স্কুল
পরবর্তী নিবন্ধসাইকেল থেকে পড়লেও অক্ষত আছেন বাইডেন