গত এক বছর আগে আমি কী ভয়ানক দুঃসহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিলাম, আল্লাহ ছাড়া কেউ হয়তো সঠিক অনুধাবন করতে পারবেন না। আমার মা ও গুটি কয়েক শুভাকাঙ্ক্ষী কিছুটা অনুমান করতে পেরেছেন হয়তো। গত বছর এমন দিনে যথারীতি অফিস করছিলাম। রবিবার। অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাব। সেখান থেকে যাবো বইমেলায়। মেলা চলছিল। পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা। অটো রিঙায় এক্সিডেন্ট করেছিলাম। অফিসের গেটে আসতেই দেখি প্রায় ১০ জনের মতো মেয়ে অসভ্য ভাষায় কথা বলে আমাকে ঘিরে ধরে। তারপর আমাকে নিয়ে চললো কোতোয়ালী থানায়। আমি বললাম রিঙা নিতে, যেহেতু পায়ে প্রচণ্ড পেইন। তারা ধাক্কাধাক্কি করছিল, আমি পড়ে গেলাম রাস্তায়। আবার কষ্ট করে হেঁটে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে গেল। তাঁদের শ্লোগান ছিল: একটা একটা লীগ ধর –ধরে ধরে জবাই কর। আমি মোবাইল হাতে নিয়ে আমার বাসায় এবং অন্যদের খবর দিতে চাইলে তারা আমার মোবাইল কেড়ে নেয়, পরে আমার মোবাইল এর স্ক্রিন ফাটিয়ে ফেলে যা আমি দুঃসময়ের স্মৃতি হিসাবে রেখে দিয়েছি। থানায় গিয়েও তারা চিৎকার করছিল। দিচ্ছিল কারাগার ভাঙার হুমকি। আমাকে থানার দায়িত্বরত অফিসার নিরাপদ রাখার জন্য অন্য রুমে নিয়ে বসিয়ে রাখলেন। এরপর গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হল।
আমি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ৯ম গ্রেডে চাকুরীরত সদস্য। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মব তৈরি করে ওরা আমাকে কারাগারে পাঠালো। ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত এক মাস কারাগারে ছিলাম। কারাগারে খাবারে মেডিসিন মিক্স করত। কারাগারের খাবার খেতে পারতাম না, এক্সট্রা কিনে খেতে হতো। কী কষ্ট দিনের পর দিন। রমজানের ১৫ দিন আমি কারাগারে ছিলাম। আমার মা আমার জামিন করিয়ে বাসায় নেয়ার পরে আমি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। মাইল্ড স্ট্রোক করেছি একবার কারাগারের ভেতরে ঘুমে, সেটা আমার অজানা ছিল। হাঁটতে কষ্ট হত খুব। জামিনের পরে মে মাসের ৫ তারিখ আবার মাইল্ড স্ট্রোক। এরপর দীর্ঘ ৬টি মাস কষ্ট, পায়ে হাঁটতে পারিনি। তারপর ইলেকট্রনিক ফিজিওথেরাপি দিয়ে ৭ম মাসের শুরুতে হাঁটা শুরু করেছি। এই দুঃসহ জীবনে মিথ্যা ও সাজানো মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে এখনো চলছি। জানি না কখন রেহাই পাবো!












