বড় কোম্পানিগুলোর কর ফাঁকি বন্ধে সরকার তৎপর : অর্থমন্ত্রী

| বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সামষ্টিক অর্থনীতির নানা সংকট থেকে উত্তরণ, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাড়তি দামে জ্বালানি কেনার মত ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে বড় কোম্পানিগুলোর কর ফাঁকি বন্ধে তৎপর হয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ শিল্পগ্রুপগুলোর কর ফাঁকির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যে তদন্তে নেমেছিল, তা আবার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও রাজস্ব ভবনে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে তদন্ত শুরু হয়েছিল, তার অগ্রগতি জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। বর্তমান সরকার নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেবে কি না সেই প্রশ্নও তারা করেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছুই (আলোচনা হয়েছে)। এটা খালি একটা বিষয় নিয়ে না। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে। সবকিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বেঙ্মিকো, সামিট, এস আলমসহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপগুলোর কর ফাঁকির তদন্তে নামে। সে সময় কিছু কর আদায়ও করা হয়। বিএনপির নতুন সরকারের সামনে বাজেট তৈরির চ্যালেঞ্জ নিয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যে অর্থনীতি ইনহেরিট করেছি, এটা তোঅর্থনীতির খুবই খারাপ অবস্থায় আমরা দায়িত্বটা নিয়েছি। সে জায়গা থেকে প্রথমে আমাদের উদ্ধার পাওয়ার একটা ইস্যু আছে। ইলেকশন মেনিফেস্টোতে যে কমিটমেন্টগুলো করেছি মানুষের কাছে, জনগণের কাছে, আমাকে সেটাও মিট করতে হবে। সুতরাং এখানে রিসোর্স মোবিলাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি রিসোর্স মোবিলাইজেশন করতে না পারি, তাহলে আমরা কীভাবে এগুলো করবো? একদিকে ইকোনমিকে স্যালভেজ করতে হবে, অন্যদিকে আমাদের যে জনগণের কাছে দেওয়া মেনিফেস্টো, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ওপর আবার এখন আরও বড় প্রবলেম হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। আমাদের বড় একটা অংশ এখানে খরচ করতে হচ্ছে এঙট্রা, অতিরিক্ত দামে আমাদের জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। সুতরাং এটা থ্রিওয়ে চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়গুলো আলাপ করেছি এতক্ষণ ধরে, কীভাবে রিসোর্স মোবিলাইজেশনের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো আমরা মোকাবেলা করতে পারি। তো বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, আমাদের এটা রিভিউ করতে হবে কনস্ট্যান্টলি, এটা ফাইন টিউনিং করতে হবে। যখন সবকিছু সমাপ্ত হবে, তখন আপনাদের জানাতে পারবো। এখন তো রিভিউ চলছে। চলতি বছর এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, ওই অগ্রগতি তোওইটা এখন ইকোসকে (জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ) যাবে, ওখান থেকে পাস হয়ে যাবে জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে। তো আমরা দেখি কি হয়, এটা চলমান প্রক্রিয়া। যতক্ষণ কিছু না হয় ততক্ষণ একেবারে নিশ্চিতভাবে তো কিছু বলা যায় না।

এসময় করজিডিপি অনুপাত বাড়াতে ঋণ নির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাওয়ার কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা টাকা ছাপাতে চাচ্ছি না। দেশি বিদেশি বিনিয়োগ যাতে আকৃষ্ট হয় এবং তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান যাতে সৃষ্টি হয়, সেটা মাথায় রেখে বাজেটটা করতে হবে। যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং এখানে বারবার হচ্ছে কি, আমাদের একটা বড় সমস্যা হয় কি, আমরা কোনো কিছু লং টার্মে রাখতে পারি না।

এই একটা নীতি প্রণয়ন করার পরে বিনিয়োগকারীরা যখন আসে আবার সেটা পরিবর্তন হয়, এটা তো আবার রং মেসেজ দেয়। তো আমরা এগুলো করতে চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি যে পলিসিগুলো দেব, এর একটা সময়সীমা বিনিয়োগকারীরা যাতে জানে, তারা যাতে তাদের হিসেবের মধ্যে এনে বিনিয়োগ করতে পারে। তো তাদের মধ্যে সেই স্বস্তিটা তো আনতে হবে। সেই কনফিডেন্স না থাকলে তো দেশেও কেউ বিনিয়োগ করবে না, বাইরেরও কেউ করবে না।

এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান ও আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোববারের মধ্যেই বিশেষ কমিটি, ইঙ্গিত চিফ হুইপের
পরবর্তী নিবন্ধনিয়মিত রাজস্ব আদায় হলেও নেই কোনো সংস্কার, পারাপারে ঝুঁকি