ব্যয়বহুল হওয়ায় ৭০ শতাংশ কিডনি রোগী মাঝপথে বন্ধ করেন চিকিৎসা

আজ বিশ্ব কিডনি রোগ দিবস

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্বে বাঁচাও ধরণীরে’প্রতিপাদ্যে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব কিডনি দিবস২০২৬। দিবসটি কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাপপাতালের কিডনি রোগ বিভাগ বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ নির্ণয় করা গেলে নিরাময় সম্ভব। কিন্তু কিডনি রোগ নীরব ঘাতক হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় সম্ভব হয় না। যখন রোগীরা ডাক্তারের কাছে আসেন, তখন কিডনি প্রতিস্থাপন অথবা ডায়ালাইসিস ছাড়া উপায় থাকে না। এক্ষেত্রে কিডনি প্রতিস্থাপন অনেক ব্যয়বহুল। দেশের কিডনি রোগীর মাত্র ১০ শতাংশ কিডনি প্রতিস্থাপন এবং ডায়ালাইসিস করে বেঁচে থাকে। আর বাকি ৯০ শতাংশই বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। কারণ এর চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে রোগটির প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের দিকেই জোর দেয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশে কিডনি রোগের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কিডনি আক্রান্তের হার বাংলাদেশে। বেশিরভাগ দেশে যেখানে ১৪ শতাংশের কম, সেখানে বাংলাদেশে এ হার ১৪ থেকে ২২ শতাংশ। ব্যয়বহুল হওয়ায়, ৭০ শতাংশ রোগী মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করেন। ফলে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় ২০ হাজার জন। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তে হলে ৫০ ভাগ রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব। অন্তত ৪০ শতাংশ কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। সপ্তাহে দুইতিনবার ডায়ালাইসিস ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশিরভাগ রোগীই মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে।

চমেক হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, নেফ্রাইটিস (কিডনিতে এক ধরনের ইনফেকশন), মূত্র তন্ত্রের বাধা, জন্মগত কিডনি রোগ, পাথর রোগ এবং গর্ভাবস্থা ও শল্য চিকিৎসার জটিলতায় আক্রান্তদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া ব্যাথানাশক ও কিডনির অন্যান্য ক্ষতিকর ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ধুমপানও কিডনি রোগের অন্যতম কারণ। কিছু বিষয় মেনে চললে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব। কিডনি রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যাথানাশক ওষুধ ও এন্টিবায়েটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকা, সুষম (পুষ্টিকর) খাবার খাওয়া, ধুমপান পরিহার ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তাছাড়া কিডনি রোগের প্রয়োজনীয় তথ্য জানা, পরিবারের কোন সদস্যের কিডনি রোগ থাকলে নিজের কিডনি পরীক্ষা করার পাশাপাশি বাৎসরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৫ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
পরবর্তী নিবন্ধগোপন ভিডিও নিয়ে নারীকে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৬