ব্যারিস্টার আনিসের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম৫ আসনে নিজের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের জড়িয়ে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ‘ন্যক্কারজনক’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বিএনপির নেতারা বলেন, গত শনিবার চট্টগ্রাম৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের সময় সুনির্দিষ্ট স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণ উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, মনোনয়নপত্র বাতিলের পর সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য চট্টগ্রাম৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপিয়েছেন। আমরা তার অভিযোগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, এর সঙ্গে হাটহাজারীর আপামর মানুষের নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল কিংবা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা পত্রিকান্তরে জেনেছি, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আনিস বিক্ষোভকারীদের বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার প্রস্তাবক ও সমর্থককে অপহরণের অভিযোগ করেন। অথচ চট্টগ্রামের জনগণ অবগত আছে যে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ যখন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন থেকেই চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্রজনতা এবং জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একজন জুলাইযোদ্ধা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সিএমপি কমিশনার এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদনও করেছেন। একই দাবিতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবরও আবেদন করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের সময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য সেই আন্দোলনকারী জুলাইযোদ্ধারাই বিক্ষোভ করেন। কারণ পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদি শাসন টিকিয়ে রাখতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে হাটহাজারীর সংসদ সদস্য পদ দখল নিয়েও হাটহাজারীবাসী তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী ও নগরীর বিভিন্ন থানায় কয়েকটি হত্যা মামলা আছে। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আছে। জুলাইযোদ্ধাদের বিক্ষোভকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো করে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জনগণের ক্ষোভের কারণে সম্ভবত ব্যারিস্টার আনিসুল মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছেন। তাই মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্যে তিনি নিজে আসেননি। প্রস্তাবক হিসেবে যে আলমগীরকে পাঠিয়েছেন সেই আলমগীরও জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র হত্যা মামলার আসামি। ব্যারিস্টার মীর হেলালের জনপ্রিয়তা দেখেও তিনি ভীত হয়েছেন। এ কারণে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের টার্গেট করে আবোলতাবোল বকছেন। তার এসব মিথ্যাচারের জবাব হাটহাজারীবাসী দেবেন।

বিবৃতিদাতারা হচ্ছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন, এম এ ফায়েজ, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ ও সদস্যসচিব মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন চেয়ারম্যান, হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন ও সদস্যসচিব ওহিদুল আলম ওহিদ, ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপি আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল, ৪৪ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপি আহ্বায়ক মামুন আলম, জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপি সদস্যসচিব আব্দুল করিম ও ৪৪ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড সদস্য সচিব মো. খোকন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুয়েক দিনের মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান
পরবর্তী নিবন্ধপাহাড় কেটে বাড়ি, রাস্তার জন্য আবার কাটা হচ্ছে পাহাড়