বোয়ালখালীতে ৬ আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার

পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও রেহাই মেলেনি

বোয়ালখালী প্রতিনিধি | রবিবার , ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ

বোয়ালখালীতে দেশিবিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। গত শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার বেঙ্গুরা এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ৪টি বিদেশি শটগান, ২টি বিদেশি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি (অ্যামোনিশন) এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের হোরারবাগ চেয়ারম্যান বাড়ির মৃত আবুল বশরের ছেলে সালাহউদ্দিন রুমি (৫১) ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম বাপ্পি (৫৬)। তারা উভয়েই সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেনের ভাই।

মেজর মো. রাসেল জানান, গ্রেপ্তারকৃত সালাহউদ্দিন রুমির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ মোট ৬টি এবং সাইফুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। এই সন্ত্রাসীরা নিজস্ব পদ্ধতিতে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করত এবং বোয়ালখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে অস্ত্র বিক্রি করত। এছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনে তারা অস্ত্র চালনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই গ্রেপ্তার অভিযান শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় সহায়ক হবে বলে তিনি জানান।

ক্যাম্প কমান্ডার আরও জানান, সেনা সদস্যরা অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অপারেশন পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে সেনাসদস্যদের তৎপরতায় ও চতুর্মুখী আক্রমণের মুখে তারা পালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয় এবং ধরা পড়ে।

গ্রেপ্তারের সময় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেনাসদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের দেখানো মতে পরিত্যক্ত বাড়ির সিলিংয়ে, আলমারির গোপন বাঙে, গোয়ালঘরের খড়কুটোর নিচে এবং নির্মাণাধীন ভবনের বালির নিচেমোট চারটি ভিন্ন স্থান থেকে লুকিয়ে রাখা বাকি অস্ত্র, অ্যামোনিশন ও অস্ত্র তৈরির সব উপকরণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জব্দকৃত মালামালের তালিকা প্রস্তুত করে। আসামিদের সুস্থ অবস্থায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাতিয়ার নয়, ভাসানচর সন্দ্বীপের
পরবর্তী নিবন্ধএলপিজি খাতে নিয়ন্ত্রক জটিলতা, অতিরিক্ত খরচ