বোরো চাষাবাদে প্রস্তুত বীজতলা, শিগগিরই শুরু হবে রোপণ

ধানের ভালো দামে উৎসাহ বাড়ছে কৃষকদের

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | শনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ায় আমন মৌসুমে ভালো উৎপাদন এবং ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা বিপুল উৎসাহে বোরো আবাদ শুরু করছেন। ইতিমধ্যেই বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে রোপণের জন্য মাঠ প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শিগগিরই পুরোদমে রোপণ শুরু হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ায় গেল আমন মৌসুমে গড়ে ৫.৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এই হিসেবে ৮৫ হাজার মেট্টিক টনের অধিক ধান উৎপাদিত হয়েছে রাঙ্গুনিয়ায়। প্রতি কেজি ধান সরকারিভাবে ৩৪টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৪৯টাকা হারে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাজারেও প্রায় একই মূল্যে ধানচাল বিক্রি হচ্ছে। তাই ধানের ভালো দামে উৎসাহ বাড়ছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমন মৌসুমে ১৫ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিলো। তবে বোরো মৌসুমে ৯ হাজার ৯৬৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকী জমিতে সবজি আবাদ এবং কিছু জমি সেচ সুবিধার অভাবে পতিত থেকে যায়। রোপণের জন্য ৪৯০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ৩১৫০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছিল।

চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলে গিয়ে দেখা যায়, বোরো চারা রোপণের জন্য মাঠ প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউবা বীজতলা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই আবার বাজার থেকে চারা রোপণের জন্য শ্রমিক নিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে কথা হয় গুমাইবিলে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমারের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেচ সুবিধা থাকায় এবং ধানের দাম পাওয়ায় গুমাইবিলে এবারো ৩২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হবে। এরইমধ্যে বিলের ১৫০ হেক্টর আমন বীজতলা করা হয়েছে। এবার বিলে উচ্চ ফলনশীল উফশী জাত ব্রিধান৬৭, ৭৪, ৮৮, ৮৯, ১০০ ও ১০২, ১০৪, ১১৪, কাটারি এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে এসএলএইটএইচ, হীরা, , ছক্কা, জনক রাজ, এপিআই, ২ আবাদ হবে।

গুমাইবিলের কৃষক মো. রেজাউল করিম জানান, আট কানি জমিতে আমন আবাদ করে গড়ে ৬ মেট্রিক টন করে ধান পেয়েছিলাম। এরমধ্যে মোটা ধান ৩৩০ টাকা এবং চিকন ধান ৩৫০ টাকা আড়ি (১০ কেজি) দামে বিক্রি হচ্ছে। এবার বোরোতেও একই পরিমাণ জমিতে বোরো আবাদ করবো। এজন্য প্রয়োজনীয় বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকদের সর্বাত্মক সহায়তা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে বীজতলা করার কাজও শেষ হয়েছে। উপজেলার কোথাও কোথাও রোপণ কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে রোপণ কার্যক্রম শুরু হবে। কৃষকদের সহায়তায় কৃষি অফিস সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমির্জাপুর পালি কলেজে বিদায় অনুষ্ঠান
পরবর্তী নিবন্ধপটিয়ায় হযরত শাহগদী শাহ (রহ.) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ আজ