জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘিরে টানাপোড়নের মাঝে চট্টগ্রামে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। এখন থেকে বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল বিক্রি না করতে পেট্রোল পাম্প মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে এ বিষয়ে প্রচারণা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার পাম্প মালিকদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র না থাকলে অকটেন বিক্রি করা যাবে না। অন্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও চালকদের লাইসেন্সের পাশাপাশি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হবে।
জেলা পুলিশের আওতাধীন পাম্পগুলোতে এই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও নগরীর পাম্পগুলোতে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নগরীর একটি পেট্রোল পাম্পের মালিক বলেন, আমাদের পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পাম্পে অবস্থান করেন এবং তেল বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পাম্পে যতক্ষণ তেল থাকে ততক্ষণ যেসব গাড়ি বা মোটরসাইকেল আসে আমরা সবাইকে তেল দিচ্ছি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর থেকে দেশের বাজারে তেল সংকট নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে শুরু করলে গত ৬ মার্চ থেকে সরকার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। তবে রোজার ঈদ সামনে রেখে ১৪ মার্চ সেই রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়।
ঈদের আগে কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ২৩ মার্চ থেকে আবারও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাম্পে তেলের সংকট দেখা দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন মোটরসাইকেল চালকরা। বর্তমানে অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় পুলিশের নতুন নির্দেশনা জারি হওয়ায় পাম্প মালিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পটিয়ার একটি পেট্রোল পাম্পের মালিক গতকাল আজাদীকে জানান, গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করার দক্ষতা পেট্রোল পাম্পের কর্মীদের নেই। কোনটি আসল, কোনটি নকল সেটি ধরা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া ট্রাফিক সার্জেন্ট ছাড়া আমাদের কর্মীদের গাড়ির কাগজপত্র চেক করার আইনি বৈধতাও নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের পাম্পের অধিকাংশ ক্রেতা স্থানীয়। আমাদের কর্মীদের পক্ষে এদের সামলানো কঠিন। কাগজপত্র চেক করে তেল দিতে গেলে স্থানীয়দের সাথে তাদের মুখোমুখি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। পাম্প এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তেল সংকটের কারণে ইতোমধ্যে পাম্পে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ লাইনের চাপের মধ্যে আবার কাগজপত্র যাচাই করে তেল বিক্রি করতে গেলে পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অনিয়ম ঠেকাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর বাস্তবায়নে সমন্বিত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।












