চট্টগ্রাম নগরে এক স্বজনের বিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী বাঁশি মোহন দাশ (৫০)। বিয়ের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফেরার পথই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ যাত্রা। যেই মানুষটি বিয়ে অনুষ্ঠানে আনন্দে মেতেছিলেন, আপনজনদের সঙ্গে হাসি ভাগ করে নিয়েছিলেন, তিনি হঠাৎই চলে গেলেন না ফেরার এক দেশে। উৎসবের সেই আলো মুছে গিয়ে এখন শোকের ছায়া। যে দরজা তার জন্য অপেক্ষায় ছিল, সেখানে আজ নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস। পরিবারের চোখে অশ্রু, বুকভরা হাহাকার। একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল একজন মানুষকে, ভেঙে দিল একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন। ফিরে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি আর ফিরলেন না– ফিরে এলো শুধু স্মৃতি আর এক গভীর অপূরণীয় শূন্যতা।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে পটিয়া উপজেলার কমলমুন্সির হাট এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যবসায়ী বাঁশি মোহন দাশের মৃত্যু হয়। বিছিন্ন হয়ে গেছে একটি হাত। তিনি লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দু পাড়ার মৃত মনিন্দ্র দাশের পুত্র ও পেশায় পান ব্যবসায়ী।
নিহতের স্বজনরা জানান, বিয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে বাড়ি ফিরছিলেন ব্যবসায়ী বাঁশি মোহন দাশ। তার সঙ্গে ছিলেন দুই মেয়ে এ্যানি দাশ ও বৈশাখী দাশ আর দুই নাতি। কিন্তু ফেরার পথেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে মোহন দাশের মৃত্যু হলেও অক্ষত থাকে দুই মেয়ে ও দুই নাতি।
নিহতের মেয়ে বৈশাখী দাশ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম দিকে কিছু মানুষ ঘটনাস্থলে আসলেও আহতদের সাহায্য করেননি। বরং তার আহত পিতার পকেট থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে হতাহতদের উদ্ধার করে। এই নীরবতা ও স্বার্থপরতা তার মনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দুর্ঘটনায় বাবা না ফেরায় পরিবার আজ শোকাহত এবং সেই শোকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের অমানবিক আচরণের আঘাত।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বাঁশি মোহন দাশের মরদেহ নিজ এলাকায় পৌঁছলে স্বজনদের মাঝে এক শোকের ছায়া নেমে আসে। একইদিন রাতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।










