বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা এবং কূটনৈতিক মিশনগুলো। গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে শোকবার্তা আসে। সেসব বার্তায় খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। খবর বিডিনিউজের।
ভারত : খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক শোকবার্তায় বলেছেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এক এঙ পোস্টে মোদী বলেন, ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরলোকগমনের সংবাদে গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান যেন এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি তার পরিবারকে দান করেন।
এক দশক আগে ঢাকা সফরের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ২০১৫ সালে ঢাকায় তার সঙ্গে আমার সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করছি। আমরা আশা করি, তার ভাবনা ও উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতেও পথনির্দেশ করবে। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।
ভারতের লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এক এঙ পোস্টে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মর্মাহত। জনপরিসরে দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। খালেদা জিয়ার পরিবার, তার কর্মী–সমর্থক এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক সমাবেদনা জানিয়েছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এই নেতা।
শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এক এঙ পোস্টে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।
পাকিস্তান : খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রেসিডেন্ট জারদারির দপ্তরের এক এঙ পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছেন। জারদারি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দিন।
আলাদা শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে তার যে অবদান তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। খালেদা জিয়া পাকিস্তানের নিবেদিত বন্ধু ছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই শোকের মুহূর্তে আমার সরকার ও পাকিস্তানের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের ভাবনা ও প্রার্থনা তার পরিবার, বন্ধু এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার আত্মাকে শান্তি দান করুন। আমিন!
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আন্তরিক সমবেদনা। আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য দান করুন।
চীন : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। চীনের প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। শোক জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে চিঠি পাঠিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আর ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত শোকবার্তা পাঠিয়েছেন খালেদার বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। শোকবার্তায় চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। চীন সরকারের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশ সরকার এবং খালেদা জিয়ার পরিবারকে গভীর শোক ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক এবং চীনা জনগণের পুরনো বন্ধু। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে সহযোগিতার সমন্বিত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল চীন ও বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সমতা ও পারস্পরিক মঙ্গলের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গড়া এই অংশীদারত্ব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পথ তৈরি করেছিল। চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে চীন তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে লেখা চিঠিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই দুঃখজনক সময়ে আপনার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছি।
আর তারেক রহমানকে লেখা চিঠিতে ইয়াও ওয়েন বলেন, গভীর দুঃখ ও বেদনাহত হৃদয় নিয়ে আমি বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং আপনার প্রিয় মা বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে গভীর শোক জানাচ্ছি।
চীনা প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোকবার্তা পাঠানোর কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করে তুলেছিলেন এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি অবিচল ছিলেন। তার নেতৃত্ব জাতির ইতিহাস নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে এবং তার দৃঢ়তা অনুপ্রাণিত করেছে জনগণকে। তিনি ছিলেন চীনের এমন প্রিয় বন্ধু, যার অবদান আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে স্থায়ী চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। চীনা জনগণ গভীর কৃতজ্ঞতা ও সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে তাকে মনে রাখবে। তারেককে রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, আপনার নেতৃত্বে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি।
জাপান : বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার দেশ গভীরভাবে শোকাহত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্মানিত চেয়ারপারসন মহামান্য বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার পরিবার, বিএনপির সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।
রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম জিয়া দুইবার জাপান সফর করেন, যা আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তার নিষ্ঠাবান প্রচেষ্টা ও উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
যুক্তরাষ্ট্র : ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক শোকবার্তায় বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক জানাচ্ছে। দেশের আধুনিক ইতিহাস নির্মাণে খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। আর বাংলাদেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সক্রিয় নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
যুক্তরাজ্য : যুক্তরাজ্য হাই কমিশন এক শোকবার্তায় বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ের কথা জেনে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। কষ্টের এই সময়ে তার পরিবার, বন্ধু এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছি আমরা।
জার্মানি : ঢাকায় জার্মান দূতাবাস এক শোকবার্তায় বলেছে, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান, সাবেক ফার্স্ট লেডি এবং দীর্ঘদিনের বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জার্মান দূতাবাস গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। দীর্ঘ জনজীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৪ সালে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশকা ফিশারের ঢাকা সফর এবং ২০১১ সালে জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় তার সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জার্মানির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা স্মরণ করছে জার্মানি।
দূতাবাস বলছে, এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে তার অবদানকে সম্মান জানাচ্ছে এবং তার পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বে জার্মানি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শান্তিতে বিশ্রাম নিন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন : ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে বলেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।
রাশিয়া : রুশ দূতাবাসও খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কথা জেনে ঢাকায় রুশ দূতাবাস গভীরভাবে মর্মাহত।
ফ্রান্স : ঢাকায় ফরাসি দূতাবাসও খালেদা জিয়ার পরিবার ও অনুসারীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফরাসি দূতাবাস গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই শোকের সময়ে ফ্রান্স তার পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছে।
কানাডা : বাংলাদেশে কানাডার হাই কমিশন এক বার্তায় বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারা শোকাহত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কানাডা তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার যেন শক্তি ও সান্ত্বনা খুঁজে পাক, এই কামনা করছে কানাডা।
অস্ট্রেলিয়া : বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন এক শোকবার্তায় বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমাদের হৃদয় বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে রয়েছে।
ইরান : ঢাকায় ইরানি দূতাবাসও প্রয়াত খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করেছে এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।












