বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। এই ধারাবাহিকতাকে আরও পেশাদার ও বেগবান করতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের খুঁজে বের করতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বাফুফে কমিটি। বাফুফে সভাপতি জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কাউটিং টিম গঠন করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই বাংলাদেশি প্রতিভার খোঁজ মিললে তাকে জাতীয় দলের পাইপলাইনে যুক্ত করা। সমপ্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো প্রতিভা আমাদের চোখের আড়ালে থাকুক। যুক্তরাজ্যে আমরা দুইজন এবং ইতালিতে একজন স্কাউট চূড়ান্ত করেছি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুইজন স্কাউটের সঙ্গে কথা চলছে। আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার, যেখানেই বাংলাদেশের রক্ত আছে, আমাদের স্কাউটরা সেখানে পৌঁছাবে।’ ইতিমধ্যেই জামাল ভূঁইয়া জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লেস্টার সিটির হামজা চৌধুরী লাল–সবুজ জার্সিতে খেলেছেন। এছাড়া ফাহমিদুল ইসলাম বা শমিত সোমদের মতো প্রতিভাবানদের নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলে সামাজিক মাধ্যমে। তাবিথ আউয়ালের মতে, এসব ফুটবলারদের শুধু একবার দেখে বিচার করা ঠিক নয়; বরং স্কাউটরা তাদের নিয়মিত ফলো করবেন এবং টেকনিক্যাল টিমের কাছে রিপোর্ট দেবেন। এতে কোচদের জন্য সেরা একাদশ গঠন করা সহজ হবে। শুধু বিদেশে খেলোয়াড় খোঁজা নয়, দেশের ফুটবল কাঠামোকেও ইউরোপীয় ধাঁচে সাজাতে চান বাফুফে সভাপতি। আগামী জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের ম্যানেজমেন্টকেও ইউরোপীয় মানে নিয়ে যেতে হবে। পরিকল্পনায় কোনো অজুহাত চলবে না।’ একইসঙ্গে দেশের ঘরোয়া লিগের মান বাড়াতে অন্তত ৬টি আধুনিক স্টেডিয়াম ব্যবহারের সুযোগ চেয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে বাফুফে। নারী ফুটবলারদের জন্য বড় সুখবর দিয়ে তাবিথ জানান, পহেলা বৈশাখেই সাফজয়ী মেয়েদের বকেয়া বোনাস সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। এছাড়া খেলোয়াড়দের ওপর সাইবার বুলিং ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, ‘গালি দিতে হলে আমাকে বা কোচকে দিন, কিন্তু খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণ করবেন না।’ ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাবিথ আউয়াল মনে করেন, এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে দেশকে একটি ‘স্পোর্টিং নেশন’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।













