নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাইপবের্র সুপার সিক্সে উত্তীর্ণ হয়েছে। নেপালের কীর্তিপুরে বৃহস্পতিবার উইমেন’স টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ১৪৪ রানের পুঁজি গড়ে নামিবিয়াকে স্রেফ ৬৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা। শক্তি–সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতায় দুই দলের পার্থক্য ছিল বিশাল। মাঠের ক্রিকেটেও তা ফুটে উঠে প্রবলভাবে। ব্যাটারদের সম্মিলিত চেষ্টার পর, মেঘলা–রাবেয়াদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নামিবিয়া শতরানের আগেই থেমে যেতে বাধ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে বাছাই পর্বের পথচলা শুরু করে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে তারা হারায় পাপুয়া নিউ গিনিকে। এবার টানা তৃতীয় জয়ে প্রতিযোগিতার সুপার সিক্সে খেলা নিশ্চিত করল নিগার সুলতানার দল। প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও, বাংলাদেশের ব্যাটিং এদিন ভালো হয়নি। দলের কেউ ছুঁতে পারেননি ৩০ রানও। ২ ছক্কা ও এক চারে ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন সোবহানা মোস্তারি। তবে সবার চেষ্টায় দেড়শর কাছে যায় দলের পুঁজি। বোলাররা অবশ্য ছিলেন দুর্দান্ত। বাঁহাতি স্পিনে চার ওভারে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে চার শিকার ধরেন সানজিদা আক্তার মেঘলা। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। লেগ স্পিনার রাবেয়া খান তিন উইকেট নিতে চার ওভারে দেন কেবল পাঁচ রান। ১২ রান খরচায় আরেক লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুনের প্রাপ্তিও তিনটি উইকেট। ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ বলে জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসকে হারায় বাংলাদেশ। জুয়ায়রিয়া কোন রান করতে পারেননি। শারমিন আক্তারও পারেননি বেশিক্ষণ টিকতে। ২ চারে ১৩ রান করেন তিনি। পাওয়ার প্লের পরের ওভারেই ক্যাচ তুলে দেন আগ্রাসী শুরু করা দিলারা আক্তার। ১ ছক্কা ও ৪টি চারে ১৭ বলে ২৫ রান করেন এই ওপেনার। নিগার ও সোবহানা মোস্তারির ৪৬ রানের জুটিতে বাড়ে দলের রান। সোবহানা ফেরার এক ওভার পর ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন নিগার সুলতানাও। তিনটি চারে ২১ রান করতে ২৯ বল খেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪টি ছক্কা মারার রেকর্ড গড়া স্বর্ণা আক্তার এদিন পারেননি ছক্কা হাঁকাতে। দুই চারে ১৮ বলে ২৩ রান করেন তিনি। শেষ দিকে একটি করে ছক্কা–চার মারেন রাবেয়া। রিতু ৬ রানে আউট হয়ে গেলেও রাবেয়া ১১ রানে এবং ফাহিমা ১ রানে অপরাজিত থাকেন। নামিবিয়ার সাইমা ৩৪ রানে এবং সিলভিয়া ২১ রানে ২টি করে উইকেট নেন। এছাড়া উইলকা এবং ডাইগার্ট ১টি করে উইকেট পান।
লক্ষ্য তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় নামিবিয়া। ১৭.৫ ওভারে ৬৪রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। যার শুরু চতুর্থ ওভারে রাবেয়ার বলে ইয়াসমিন খানের বোল্ড দিয়ে। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে প্রতিপক্ষের আরেক ব্যাটারের স্টাম্প ভেঙে দেন রাবেয়া। মার্জার্লি গোরাসিসকে বোল্ড করে শিকার ধরা শুরু করেন মেঘলা। ত্রয়োদশ ওভারে জোড়া উইকেট নেন তিনি। নামিবিয়ার হয়ে একটি করে ছক্কা–চারে সর্বোচ্চ ১৯ রান করা অধিনায়ক সুনে ভিটমানকে বিদায় করেন ফাহিমা। পরে আরও দুই উইকেট নেন তিনি। ভিটমান ও গোরাসিস ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি নামিবিয়ার আর কেউ। তাদের সাত ব্যাটার করতে পারেননি পাঁচের বেশি রান। দলের ইয়াসমিন ৫, গ্রিন ৩, গোরাসিস ১২, উইলকা ৯, নাওমি ২, মেকেলায়ে ২, সিলভিয়া ১ রান করেন। সাইমা অপরাজিত থাকেন ৬ রান করে। বাংলাদেশের তৃষ্ণা, রিতু এবং স্বর্ণা হাত ঘুরালেও উইকেটের দেখা পাননি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামীকাল শনিবার আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।












