ফুটবলের দেশ ইতালি। বিশ্বকাপ ফুটবলে অনেক কীর্তি তাদের। সেই ইতালি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এসে তুলে নিলো প্রথম জয় আর সৃষ্টি করলো ইতিহাস। দলের জয় নিশ্চিত করলেন দুই মোসকা ভাই। অ্যান্থনি মোসকা আর তার ছোট ভাই জাস্টিন মোসকা। ইতালির দুই ভাইয়ের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস, আর নেপালের ক্রিকেটারদের চেহারায় ফুটে ছিল হতাশা। গতকাল বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় উদযাপন করেছে ইতালিয়ানরা। ১২৪ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাত্র ১২.৪ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইতালি। ইতালির এই বিধ্বংসী জয়ের কারিগর দুই ওপেনার ভাই জাস্টিন মোসকা ও অ্যান্থনি মোসকা। শুরু থেকেই নেপালি বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা। অ্যান্থনি মোসকা মাত্র ৩২ বলে ৬২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৩টি চার ও ৬টি ছক্কার মার। অন্যদিকে, জাস্টিন মোসকা ৪৪ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। এই দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন ১২৪ রানের জুটিতে নেপাল ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা নেপাল ইতালির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারও টিকতে পারেনি। ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১২৩ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। নেপালের পক্ষে আরিফ শেখ সর্বোচ্চ ২৭ রান (২৪ বলে) করেন। অধিনায়ক রোহিত পৌডেল ১৪ বলে ২৩ রান এবং আসিফ শেখ ২০ রান করলেও বড় কোনো জুটি গড়তে ব্যর্থ হন তারা। শেষ দিকে কারান কেসি ১১ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকলেও তা লড়াকু পুঁজি গড়তে যথেষ্ট ছিল না। ইতালির বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ক্রিশান কালুগামাগে। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি উইকেট। এ ছাড়া বেন মানেন্টি ২টি এবং আলী হাসান, জেজে স্মাটস ও জসপ্রীত সিং ১টি করে উইকেট দখল করেন। ইতালি ক্রিকেটের জন্য এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। ১০ উইকেটের এই দাপুটে জয় বিশ্বমঞ্চে দলটির শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে।











