ইরানের ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তারা কোনোভাবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনান্ড ট্রাম্প ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এমন বক্তব্যের পর বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিশ্বকাপে ‘না খেলার’ ঘোষণা দেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী। ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, সেটা বিবেচনা করে কোনো অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না। ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে আমরা আট বা নয় মাসের মধ্যে দুটি যুদ্ধ লড়তে বাধ্য হয়েছি এবং আমাদের হাজার হাজার নাগরিক নিহত হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে আমাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে অতর্কিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। সেই থেকে প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলসহ আশেপাশে দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর প্রভাব জোরালভাবে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় সমপ্রতি শেষ হওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অনেক দল সময়মতো তাদের দেশে ফিরতে পারেনি। কিছুটা হলেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের স্বাভাবিক আয়োজন নিয়ে। যদিও ফিফার পক্ষ থেকে সব সংশয় উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশয়ের মূল জায়গাটা ৪৮ দলের বিশ্বকাপের একটি ইরানকে নিয়ে। ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মাটি তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে কি না– এমন অনেক প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে। ফিফা সভাপতি বুধবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং ইতিবাচক সমাধানও মিলেছে। ‘আমরা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছি এবং বিষয়টা হলো, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। ওই আলোচনায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে এই টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপে) অবশ্যই ইরান দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’ এরপরই এলো ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীর ওই ঘোষণা।










