ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যাদের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার, তাদের অনেকেই দলীয় পরিচয়ে পদায়ন পাওয়ায় প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এ ধরনের ডিসি বা এসপি যারা আছেন তাদের অপসারণের দাবি জানান তিনি।
গতকাল বুধবার বিকালে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন–ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য আমরা দেখেছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও ভিন্নতা দেখেছি। যেমন দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে একইধরনের ঘটনায় কোন কোন জায়গায় মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। আবার একইরকম ঘটনায় কোন কোন জায়গায় এটাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
মনোনয়নপত্র বাছাই বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে এবং সেই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা দেখেছে। তারা আইনকে দেখে। আমরা বলেছি এ ধরনের ডিসি–এসপি (জেলা পুলিশ সুপার) যারা আছে তাদেরকে অপসারণ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ ডিসি–এসপিকে সেখানে নিয়োগ করতে হবে। নাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আবদুল আউয়াল মিন্টু সাহেব বিএনপির প্রার্থী। আব্দুল মালেক সিলেটে বিএনপির প্রার্থী– এরকম প্রায় ১২–১৩ জন আছেন (দ্বৈত নাগরিক বিষয়ক)। এর ভেতরে কয়েকজন গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু একই ঘটনায় আপনার আমাদের কুড়িগ্রামের ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী তাকে গ্রহণ করা হয় নাই। আমরা এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি (ইসির)।
একইরকম ঘটনা একটি মামলার ক্ষেত্রে ঘটেছে তুলে ধরে আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে সেখানে আমাদের তিনজন নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল অবৈধভাবে। এর ভেতরে দুইজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই ঘটনায়, একই কোর্ট, একই মামলা। কিন্তু আমাদের সিনিয়র লিডার’ আপনারা জানেন, যাকে আপনারা সকলেই চেনেন যে হামিদুর রহমান আযাদ, তার মনোনয়নটাকে বাতিল করা হয়েছে। এইরকম। এক দেশে দুইরকম সিদ্ধান্ত। একই আইনের দুইরকম সিদ্ধান্ত–আমরা এটা জানিয়েছি এবং প্রতিবাদ করেছি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার–সিইসির সম্মেলন কক্ষে হওয়া বৈঠকে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।











