বিপিএলের ভেন্যু থেকে কেনবাদ চট্টগ্রাম, হতাশা ক্ষোভ

এটি চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ : মেয়র

হাসান আকবর, সুলতান মাহমুদ সেলিম | শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের যাত্রা শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকেই। প্রথম বছর থেকে প্রতিবছরই চট্টগ্রামে বিপিএলের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এবছর চট্টগ্রামে বিপিএল হচ্ছে না। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামে এবারের বিপিএলের খেলা মাঠে গড়ানোর কথা ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি আমন্ত্রণ, খাবারের ব্যবস্থা, হোটেল রেডিসন ব্লু বুকিং দেয়া থেকে শুরু করে বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হয়। দেশি বিদেশী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ কমিশনারের সাথে কোঅর্ডিনেশন মিটিংও করা হয়। নিরাপত্তার চাদরে সবকিছু ঢেকে ফেলার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু একেবারে হঠাৎ করে চট্টগ্রামের ম্যাচগুলো সিলেটে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আলোচনা করা হয়নি। চট্টগ্রাম বিদ্বেষী একটি মহল বিপিএলের চট্টগ্রাম ভেন্যু বাদ দিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিষয়টিকে তিনি চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, চট্টগ্রামের মানুষ এই ষড়যন্ত্রের কড়া জবাব দেবে। শুধু সিটি মেয়রই নন, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং সিডিউল অনুযায়ী চট্টগ্রামের ভেন্যুতে খেলা অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট জানান, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) যাত্রা শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকেই। ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ভেন্যুতেই শুরু হয়েছিল জননন্দিত এই ক্রিকেট ম্যাচ। চলতি বছর বিপিএলের ১২তম আসর বসছে। উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেট ভেন্যুতে। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে সিলেটে বিপিএল খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিলেটের খেলা শেষে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম ভেন্যুতে ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠানের কথা ছিল। বর্ণিল এই আয়োজনকে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছিল। ক্রীড়াপ্রেমী চাটগাঁইয়া দর্শকেরা মাঠে বসে প্রিয় টিমের খেলা উপভোগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হোটেল রেডিসন থেকে শুরু করে বাদাম বিক্রেতা সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সর্বত্রই ছিল একটি উৎসবের আমেজ। কিন্তু একেবারে হঠাৎ করেই বিপিএলের ভেন্যু থেকে চট্টগ্রামকে বাদ দেয়া হয়। চট্টগ্রামের সব খেলা সরিয়ে নেয়া হয় সিলেটে। যেখানে খেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২ জানুয়ারি। অথচ সিলেটে এখন খেলা চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত।

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামের মানুষ হতাশার পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, চট্টগ্রাম বিদ্বেষী একটি মহল সুকৌশলে এখানের খেলা সিলেটে সরিয়ে নিয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে খেলা সরিয়ে নিলেও তা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো সভা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডে কোনো আলোচনাও হয়নি। অথচ চট্টগ্রামকে বাদ দেয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তারা বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের সাথে খেলা করলো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল বিসিবি’র পরিচালক মোহাম্মদ মনজুর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না। এ ব্যাপারে বোর্ডে কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের অজ্ঞাতসারে চট্টগ্রাম ভেন্যু বাদ দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের সাথে আমি পুরোপুরি একমত। আমি চাই যে কোনো আঙ্গিকে মাঠে খেলা থাকুক। চট্টগ্রামের ক্রীড়ামোদিরা খেলা উপভোগ করুক।’ বিসিবি পরিচালক আহসান ইকবাল চৌধুরী আবীর গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, চিটাগাং ভেন্যু বাদ দেয়ার বিষয়টি যেভাবে বলা হচ্ছে সেভাবে ভাবলে হবে না। এটা আসলে টেকনিক্যাল প্রবলেমের কারণেই হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং দেশের তিনবারে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিপিএলে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আমরা মনে করেছি বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো বিপিএলের খেলার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওনার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণার কারণে সিলেটে ৩০ ডিসেম্বর খেলা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এখন ওই খেলাটি ৪ তারিখে হবে। সিলেটের খেলা শেষ করে একদিনের মধ্যে এতোগুলো খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্টদের বিমানের টিকেট ম্যানেজ করে চট্টগ্রামে আনা, লজিস্টিক্যাল বিভিন্ন সমস্যা, সমপ্রচারসরঞ্জাম ব্যবস্থাপনাসহ নানা টেকনিক্যাল কারণেই চট্টগ্রামের খেলাগুলো সিলেট নিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ২৩ তারিখেই ফাইনাল করতে হবে। বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে যাবে ২৬ জানুয়ারির দিকে। এমন সিডিউলের মধ্যে এর কোনো বিকল্প ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে চট্টগ্রামের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রয়োজনে সিলেটে দুইদিন খেলা শেষ করে চট্টগ্রামে আনা যেতো। এখানে সূচিতে দুইদিন কমিয়ে খেলা অনুষ্ঠানেরও সুযোগ ছিল। অথচ ঠুন্‌কো অজুহাতে চট্টগ্রামকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টিতে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী মনোভাব দেখছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, বিসিবি কাজটি ভালো করেনি। নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং পছন্দ অপছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। তিনি বিসিবির এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ ঠিক সময়ে এর যোগ্য জবাব দেবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঘন কুয়াশা, ঢাকার চারটি বিমান নামল চট্টগ্রামে
পরবর্তী নিবন্ধজুনিয়র বৃত্তি বাড়ছে ২০ শতাংশ, অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব