দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে বিপিএলের শিরোপার মঞ্চে রাজশাহী মুখোমুখি হবে চট্টগ্রামের বিপক্ষে। মিরপুর শের–ই–বাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারে তোলে ১৬৫ রান। জবাবে সিলেট থামে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৩ রান তুলে। মিরপুরে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে রাজশাহীর জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল নিয়ন্ত্রিত ও সময়োপযোগী বোলিং। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী সূচনা পায় রাজশাহী। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন। দুজনের জুটিতে আসে ৪১ রান। তবে ২১ বলে ২৬ রান করা ফারহান ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। পাওয়ারপ্লেতে রাজশাহী তোলে ৬১ রান, হারায় মাত্র এক উইকেট। এরপর তানজিদ আরও কিছুক্ষণ আক্রমণ চালিয়ে ১৫ বলে ৩২ রান করে থামেন। তিনে নামা কেইন উইলিয়ামসন এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মাঝের ওভারে বড় ধাক্কা খায় রাজশাহী। নাজমুল হোসেন শান্ত (৭), মুশফিকুর রহিম (০) ও এস এম মেহেরব হোসেন (০) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। এক পর্যায়ে চাপ বাড়লেও শেষদিকে উইলিয়ামসনের সঙ্গে জিমি নিশামের কার্যকর জুটি রাজশাহীকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। নিশাম আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৬ বলে ৪৪ রান করেন। উইলিয়ামসন খেলেন ধীরস্থির কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস, ৩৮ বলে ৪৫ রান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। সিলেটের বোলারদের মধ্যে সালমান ইরশাদ নেন ৩ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাসুম আহমেদ পান ২টি করে উইকেট। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট। প্রথম ওভারেই আউট হন জাকির হাসান, এরপর শূন্য রানে ফেরেন আরিফুল ইসলাম। ৭ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় দলটি। চাপ সামলাতে চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংস। দুজনের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ইনিংসে ফেরার চেষ্টা করে সিলেট। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৭। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রানের গতি বাড়ান এই দুজন। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে ৩৪ বলে ৪৮ রান করে ইমন বিদায় নিলে আবার চাপ বাড়ে। এরপর মঈন আলী দ্রুত ফিরে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়। বিলিংস ও আফিফ হোসেন ধ্রুবের জুটি কিছুটা আশার আলো দেখালেও ২৮ বলে ৩৭ রান করা বিলিংসের বিদায়ে সেই আশাও ফিকে হয়ে যায়। পরপর ওভারে আফিফ (২১) ও মিরাজ (৯) আউট হলে ম্যাচ প্রায় রাজশাহীর মুঠোয় চলে আসে। শেষদিকে ক্রিস ওকস লড়াই চালালেও শেষ দুই ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি সিলেট। শেষ ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ রানের বেশি আসেনি। শেষ পর্যন্ত ১২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। বল হাতে রাজশাহীর হয়ে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স দেন বিনুরা ফার্নান্দো। ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নেন। মোহাম্মদ রুবেল, আবদুল গাফফার সাকলাইন ও তানজিম হাসান সাকিব নেন একটি করে উইকেট। আগামীকাল শুক্রবারের ফাইনালে রাজশাহী লড়বে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে। গ্রুপ পর্বে শীর্ষে ছিল এই দুটি দলই।












