আনোয়ারায় এক সৎ ভাইয়ের অভিনব কাণ্ড! বিদেশ থেকে ভাইয়ের পাঠানো ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে রাতে নারী ‘স্প্রে পার্টি’ কর্তৃক টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে মুখে পাউডার মেখে অজ্ঞান হওয়ার অভিনয় করে হাসপাতালে চিকিৎসাও নেন অভিযুক্ত মো. জাবেদ উদ্দিন নয়ন (২১) নামের এ যুবক। গত শনিবার রাত ৮টা ৪৫টায় উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকার মনুমিয়ার দীঘি সড়কের নির্ঝন স্থানে মুখে পাউড়ার মেখে শুইয়ে থেকে এ নাটক সাজানো হয়। এ ঘটনার পর রাত ৯ টায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের টহল দল তাকে উদ্ধার করে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করার পর পরই সে সুস্থ হয়ে যায়। মো.জাবেদ উদ্দিন নয়ন জুঁইজন্ডি ইউনিয়নের মো.মুছার পুত্র।
নয়ন প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে গতকাল রবিবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করে যে শনিবার রাতে বিদেশ থেকে ভাইয়ের পাঠানো ১লাখ ১২ হাজার টাকা নিয়ে চাতরী চৌমুহনী থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে তার সাথে থাকা সিএনজি টেক্সির দুই নারী যাত্রী তার মুখে স্প্রে মেরে তাকে অজ্ঞান করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। গতকাল দিনভর এই ঘটনা নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হলে রাত সাড়ে ১১ টায় জাবেদ উদ্দিন নয়নকে আনোয়ারা থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তার ব্যবহৃত মোবাইলের বিভিন্ন আইডি সনাক্ত করে। পরে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।
অভিযুক্ত মো.জাবেদ উদ্দিন নয়নের পিতা মো.মুছা বলেন, আমি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার বড় ছেলে ওমানে থাকে সে বিদেশ যাওয়ার সময় অনেক টাকা সুদে লোন করে। এই সুদের টাকা পরিশোধ করার জন্য বিদেশ থেকে শনিবার আমার বড় ছেলে এক লক্ষ বারো হাজার টাকা বিকাশের দোকানে পাঠায়। শনিবার দুপুর তিনটের দিকে আমার ছেলে নয়ন উক্ত টাকা উঠিয়ে কোথায় চলে যায় আমি জানি না। পরবর্তীতে জানতে পারি তার থেকে টাকাগুলো ছিনতাইকারী নিয়ে গেছে। এখন এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে। সেজন্য আমি কোনো কিছু ভয়ে বলতে পারছি না।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মজনু মিয়া জানান, গত শনিবার রাতে এই ঘটনা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পরদিন ঘটনার তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করে এই ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয়নকে থানায় আসতে বললে সে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। এক পর্যায়ে থানায় আসতে রাজি হয়। রবিবার রাত সাড়ে ১০ টায় তার বাবাকে নিয়ে থানায় আসার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ সে কোনো তথ্য দিতে নারাজ। এক পর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চেক করে জানতে পারি– সে একজন বড় অভিনেতা ! তার ভিন্ন ভিন্ন নামে ফেসবুক আইডি দুইটি, টিকটক আইডি ২টি ও ৩টি জুয়া আইডি রয়েছে। আমরা আরো নিশ্চিত হই বিকাশের দোকান থেকে তিনটা এক মিনিটে টাকাগুলো উঠানোর পর, তিনটা ঊনচল্লিশ মিনিটে তার নিজের বিকাশ একাউন্টে টাকাগুলো আপলোড করে। এরপর তার ব্যবহৃত একটি জুয়ার আইডির মাধ্যমে টাকাগুলো চলে যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এত অল্প বয়সে সে অনেক ধূর্ত এবং টাকাগুলো জুয়ায় হারিয়ে সে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছিনতাইয়ের নাটক সাজায়। বিদেশ থেকে যে টাকা পাঠিয়েছে সে হল নয়নের সৎ ভাই। এ ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।











