বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ডাকলে বলে বাংলাদেশ তো স্থিতিশীল নয় : জামায়াত আমির

| রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির কারণে অনেক বিদেশি ব্যবসায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা যখন বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে বসি, তাদেরকে আহ্বান জানাই, আসো। তারা বলে, ‘কোথায় আসবো? তোমার দেশ তো স্থিতিশীল নয়। তোমার দেশে তো লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। তারা বলেন, তোমার দেশে তো আমার জীবনের এবং আমার বিনিয়োগের হুমকি আছে। আমার তহবিলের নিরাপত্তা ছাড়া আমি এখানে আসব? এরকম বহু দেশ আছে, যারা আমাদেরকে এ ধরনের স্বস্তিদায়ক পরিবেশের নিশ্চয়তা দেবে। তোমরা এনভাইরনমেন্ট এসার্ট করো, আমরা আসব। গতকাল শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।

বাংলাদেশে বহু জনসংখ্যা রয়েছে এবং কম খরচে উৎপাদন সম্ভব তুলে ধরলেও বিদেশিদের সায় মেলে না বলে মন্তব্য করেন শফিকুর। তিনি বলেন, আমরা যখন বলি, আমাদের ব্যাপক জনশক্তি আছে। এখানে সাশ্রয়ে শ্রমিক পাওয়া যায়। তোমার উৎপাদন খরচ কম হবে; মুনাফা তুমি বেশি করতে পারবা। বলে (বিদেশিরা) যে, উৎপাদন করতে পারলেই না আমি মুনাফা করব। এই (মুনাফা) করার পরিবেশটা আমার লাগবে।

এটা শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারী নয়, বরং দেশের সকল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কথা বলেও তিনি তুলে ধরে বলেন, অনেক সময় ব্যবসায়ীদেরকে বলা হয় সুবিধাবাদী। যখন যে সরকার আসে, তার সঙ্গে লাইন দেয়। আমার কথায় কেউ মনে কষ্ট নিবেন না। আমি যা বুঝি, তা স্পষ্টভাবে বলার চেষ্টা করি। লাইন দেয়, কারণ কোনো উপায় থাকে না; ব্যবসাকে বাঁচাতে পারে না। এজন্য আমি তাদেরকে (ব্যবসায়ীদের) দায়ী করব কীভাবে? এ দায় আমার। দায় রাজনীতিকদের।

জামায়াত আমির মনে করেন, রাজনীতির বাইরে কোনো অর্থনীতি নেই। সব নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে রাজনীতি; সমন্বয় করবে রাজনীতি; বিকশিত করবে রাজনীতি। মগজ ঠিক থাকলে গোটা শরীর ঠিকঠাক চলবে। মস্তিষ্ক যদি ঠিক না থাকে, শরীর কোনো অঙ্গ ঠিকঠাক কাজ করবে না। ব্যবসায়ীরা সমাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তিনি বলেন, রাজনীতির জায়গা থেকে এ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যতই বলি, আমরা কাঙ্খিত সেই সুবিধা এবং স্বস্তির জায়গাটা আমরা দেশিবিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করতে পারিনি। এটাই সত্য। এখন যা পারলাম না তা কি হবে না? কাউকে কাউকে একটু আগায়ে আসতে হবে। হ্যাঁ, এই কাজটা করা দরকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিড়ালের গলার ঘণ্টাটা বাঁধবে কে? আমি বাধব। আপনি বাধবেন, শপথ নেন। আগে যেটা হয় নাই, এখন এটা হতে হবে। সারা দুনিয়া পারলে আমিও পারব, আপনিও পারবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউৎপাদন মৌসুম শুরু, তবে মাঠে নেই লবণ চাষিরা
পরবর্তী নিবন্ধসড়ক নিরাপদ রাখতে সকল নাগরিককে সচেতন হতে হবে : এম এ মালেক