নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণ ও বিদেশিরা আস্থা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা নিজেদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, তারা সরকারের ওপরও আস্থা রাখবেন। আমরা যদি নিজেদের সরকারের ওপর আস্থা রাখতে না পারি, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কীভাবে আস্থা রাখবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর এক হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি ছিলেন। প্যানেল আলোচক ছিলেন আরএপিআইডির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. এমএ রাজ্জাক; বিএসইসির কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন এবং এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন। পুঁজিবাজার–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে আমীর খসরু বলেন, পুঁজিবাজার কার্যকর না হওয়ায় সরকার আইএমএফের কাছ থেকে অনেক শর্তের ঋণ নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, উড়োজাহাজ কেনা ও রেলওয়ের বড় খাতে বিনিয়োগের জন্য এখন বিদেশে ধার করতে যেতে হয়। এত বড় অর্থায়নের জায়গা নেই। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা রেলওয়ের মতো সরকারি সংস্থাগুলো মিউনিসিপ্যাল বন্ড বা সার্বভৌম বন্ড ছেড়ে বিমান কেনা বা বড় প্রকল্পের অর্থায়ন করতে পারত। এমনকি জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশের জন্য বন্ড ছাড়তে আগ্রহী হতে পারে, যদি আমরা সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে পারি। তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ সমস্যায় পড়েছে। বাংলাদেশ তার চেয়ে অনেক সুবিধাজনক স্থানে আছে। প্রতিনিয়ত বিদেশিরা বাংলাদেশে আসছেন, কিন্তু তারা বিনিয়োগ করছেন না। নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন। বক্তারা বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির অভাবই এই বাজারে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। দেশীয় প্রতিষ্ঠান হোক বা বিদেশি বিনিয়োগকারী–বড় অঙ্কের বিনিয়োগের জন্য কোম্পানির সংখ্যা হাতে গোনা। তাই দেশি–বিদেশি বড় ও ভালো বিনিয়োগকারীরা এই বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খুব বেশি আগ্রহ দেখান না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলছেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নের দিক থেকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের শেয়ারবাজার পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হতে হবে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারের ব্যাপ্তি বাড়ানো।
অন্যদিকে, ‘বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আরেক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহলের কাছে তাদের সমস্যা জানতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকে ২১টি সমস্যা চিহ্নিত করেছি, যা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের এনার্জি ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। আমরা ১০০টি ইকোনমিক জোন না করে পাঁচটিতে ভালোভাবে ফোকাস করতে চাচ্ছি, যেন সেখানে সব ধরনের ইউটিলিটি দেয়া যায়।’ তিনি জানান, আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিল বিডা একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করবে। এ সময় আমরা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিজিট করব, যেন তারা বুঝতে পারেন কোথায় বিনিয়োগ করা উচিত। তারা স্বচক্ষে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে কোন ইকোনমিক জোন তার বিনিয়োগের জন্য ভালো হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো বিদেশি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে একটি দেশ রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। দেশের বাইরের কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি যখন আমাদের দেশে অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে, তখন আমাদের দেশের অর্থনীতি আরও সচল হয়ে ওঠে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন হয়, বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশীয় কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতেও সহায়তা করে থাকে। এতে অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতের অবকাঠামো উন্নয়নেও বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে ও দ্রুত সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন তার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তারা যাতে ব্যবসায়িক লভ্যাংশ সহজ প্রক্রিয়ায় নিয়ে যেতে পারেন তার জন্য ডিজিটাল সেবা চালু রাখতে হবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। তাদের বিনিয়োগ করা কোনো প্রতিষ্ঠানে সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা দ্রুততার সঙ্গে সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।








