বিজিবিতে সৈনিক হিসেবে শপথ নিলেন ফেলানীর ছোট ভাই আরফান

‘যে সীমান্তে বোনকে হারিয়েছি, সেই সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে’

সাতকানিয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ

যে সীমান্তে আমার বোনকে হারিয়েছি সেই সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে। কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা আমার বোনের লাশের স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। জীবন বাজি রেখে হলেও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবো। আমি চাই সীমান্তে আমার বোনের মতো আর কারো বোন বা কারো সন্তানকে জীবন দিতে না হোক।’ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করে সৈনিক জীবনে পদার্পণের কিছুক্ষণ পর অনেকটা অশ্রুভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর দিনহাটা এলাকায় বাংলাদেশভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হত্যার পর লাশ দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা ফেলানী খাতুনের আপন ছোট ভাই বিজিবির নবীন সৈনিক আরফান হোসেন। গতকাল বুধবার সকালে সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের ১০৪ তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। এ ব্যাচেই বিজিবির নবীন সৈনিক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন।

বিজিবির সৈনিক হিসেবে শপথ গ্রহণের পরের অনুভূতি জানতে চাইলে আরফান বলেন, যখন সীমান্তে আমার বোনকে গুলি করে হত্যার পর কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল তখন আমি ছোট ছিলাম। কিন্তু বোন হত্যার মর্মান্তিক সেই চিত্র আমাকে ঘুমাতে দিতো না। আমার হৃদয়ে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে আমি বিজিবিতে যোগদান করবো। আমার বাবামাও স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে আমি যেন বিজিবিতে যোগ দিই। নিজের এবং বাবামার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিই। নিজেকে সেভাবে তৈরি করি। নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ২০২২ সালে এসএসসি ও ২০২৪ সালে স্থানীয় ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করি। এইচএসসি পাশ করার পর থেকে বিজিবিতে কখন সৈনিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিবে সেই অপেক্ষায় ছিলাম। বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর সৈনিক পদে পরীক্ষা দিই। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিজিবির কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করি। প্রশিক্ষণকালে প্রতি মুহূর্তে আমার মনের মধ্যে বোনের ঝুলে থাকা লাশের ছবি ভেসে উঠতো। তখন প্রশিক্ষণে শরীরের ঘামের সাথে ঝরতো চোখের পানি। নিজেকে যোগ্য সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উত্তেজনা কাজ করতো। এখন আমি বিজিবির গর্বিত সৈনিক। আমি আমার এবং বাবামার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। যে সীমান্তে আমার বোনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সেই সীমান্ত সুরক্ষার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারবো। এখন আমার খুব ভাল লাগছে। কিন্তু দায়িত্ব বেড়ে গেছে। যখন যেখানে যে দায়িত্ব পাবো সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবো ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর দিনহাটা এলাকায় বাংলাদেশভারত সীমান্তে নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা এলাকার নুরুল ইসলামের কিশোরী কন্যা ফেলানী খাতুনকে বিএসএফ গুলি করে হত্যার পর কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলপিজি আমদানির ইচ্ছা বিপিসির প্রয়োজনে অনুমোদন, বলছেন উপদেষ্টা
পরবর্তী নিবন্ধআতুরার ডিপোয় স্বর্ণের বার লুটের ঘটনায় জড়িত বার্মা সাইফুল