চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার আমিরাবাদে বসবাস আমেনা খাতুনের। তার দুই ছেলেই থাকেন ইউনাইটেড আরব আমিরাতের শারজাহ–তে। ষাটোর্ধ্ব এই নারী এখন ঘরে বসেই পেয়ে যান ছেলেদের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকা। আগে যেখানে দিনের পর দিন অপেক্ষা আর ব্যাংকের ঝক্কি সামলানো লাগতো, সেখানে প্রযুক্তির কল্যাণে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন হাতে থাকা ফোনেই সারাবিশ্ব থেকে রেমিটেন্স চলে আসছে তাৎক্ষণিক। এতে একদিকে যেমন সময়ের সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে কমেছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। আর তা সম্ভব হয়েছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ–এর কল্যাণে।
পুরানো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমেনা বলেন, “সেই দিনগুলোর কথা এখনও মনে আছে। ছেলের পাঠানো টাকা তুলতে অর্ধেক দিন লেগে যেত। লম্বা রাস্তা হেঁটে ব্যাংকে গিয়ে সেখানে আবার লাইনে দাঁড়ানো। সবচেয়ে বড় ভয় ছিল টাকা নিয়ে ফেরার পথে। ব্যাগটা শক্ত করে ধরে রাখতাম, রাস্তার প্রতিটি ছায়াও যেন এক একটা আতঙ্ক মনে হতো।”
তবে এখন তিনি ঘরে বসেই রেমিটেন্স পেয়ে যাচ্ছেন নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে। যতটুকু প্রয়োজন ততোটুকু টাকা তুলে নিচ্ছেন বাড়ির পাশের বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে। আবার, এই অ্যাকাউন্ট থেকেই নাতি–নাতনির সহায়তায় দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুতের বিলও।
শারজাহ–তে থেকে তাঁর ছেলে মোহাম্মদ মনির নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন: “আগে দিনভর পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত শরীরে ছুটতে হতো মানি এক্সচেঞ্জ হাউসে। সেখানে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র পূরণ করা ছিল আরেক ঝক্কি। এত কিছুর পরও সেই টাকা বাড়িতে পৌঁছাতে সময় লেগে যেত কয়েক দিন।
তবে সময়ের সাথে সাথে মনিরের সেই ভোগান্তি এখন অতীত। প্রায় বছরখানেক আগে তিনি প্রথমবার সরাসরি তাঁর মায়ের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। মনির অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, সেই টাকা দেশে পৌঁছাতে সময় লাগলো মাত্র এক মিনিট! সেই মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পারলেন, প্রিয়জনের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশই সেরা। কারণ এটি শুধু দ্রুত আর নিরাপদই নয়, বরং টাকার ট্রান্সফার হওয়ার প্রতিটি ধাপ নিজের ফোন থেকেই ট্র্যাক করা যায়। এখন আর মনিরের মনে টাকা পৌঁছানো নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
প্রবাসীদের জন্য এই সুবিধা সম্ভব হয়েছে বিকাশের বিস্তৃত রেমিটেন্স ইকোসিস্টেমের কারণে। ১৭০টি দেশ থেকে ১৩৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরের (এমটিও) মাধ্যমে প্রবাসীরা বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারছেন যা দেশীয় ২৭টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো একটির মাধ্যমে সেটেলমেন্ট হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায় প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে। দীর্ঘ লাইন, কাগজপত্র আর দেরির ঝামেলা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন যেন এসএমএস পাঠানোর মতো সহজ। বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠালে প্রবাসী ও পরিবার শুধু নিরাপদ থাকেন না, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পায়।
আবার বিকাশ–এ আসা রেমিটেন্সের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয় সরকার প্রদত্ত ২.৫% প্রণোদনাও (প্রতি হাজারে ২৫ টাকা। পাশাপাশি, গ্রাহকরা দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের প্রায় ২,৫০০ এটিএম বুথ থেকে ক্যাশ আউট করতে পারেন প্রতি হাজারে মাত্র ৭ টাকায়।
নানা সুবিধার পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিকাশ নিয়ে এসেছে বিভিন্ন পুরস্কার। রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে, দেশে রেমিটেন্স গ্রহণকারীরা জিতে নিতে পারেন নির্দিষ্ট আউটলেট থেকে ইলেকট্রনিক পণ্যের কেনার জন্য ১ লাখ টাকার মেগা কুপন। আবার সাপ্তাহিক বিজয়ীরাও পাচ্ছেন ৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার ডিসকাউন্ট কুপন।
বিদেশে থাকা প্রবাসীদের জন্যও পুরস্কারগুলো সমান আকর্ষণীয়। কোন দেশ থেকে কোন এমটিও পার্টনারের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে তারা জিতে নিতে পারেন গাড়ি, আইফোন ১৭, ল্যাপটপ, অ্যাপল ওয়াচসহ নানা উপহার। কিছু পার্টনার আবার শূন্য ফি’তে টাকা পাঠানোর সুবিধা ও বাংলাদেশে রাউন্ড–ট্রিপ টিকিটও দিচ্ছে।











