মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঠিক তখনই সাতকানিয়ার দ্বীপ চরতী এলাকায় ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন ১০ জন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওদের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ আর দগ্ধদের আর্তচিৎকারে ঘুম ভাঙে এলাকাবাসীর।
অবৈধ গ্যাস ক্রসফিলিং গুদামটি যখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, তখন শ্রমিকসহ ১০ জন ছিলেন ভেতরে। ঝলসানো শরীরে তারা আর্তনাদ করে বের হয়ে কান্নাকাটি করছিলেন। ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো পোড়া শরীর নিয়ে রাস্তায় হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সকালে ঘটনা ঘটায় গাড়ির অভাবে আহতদের নিয়ে দ্রুত হাসপাতালেও যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না উপস্থিত লোকজনের। জানা গেছে, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গুদামে সরকারি বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে গ্যাস ক্রসফিলিং এবং বাজারজাত করা হয়। অবৈধভাবে গ্যাস ক্রসফিলিং করতে গিয়ে এভাবে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনোভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। মাঝে–মধ্যে এসব অবৈধ গ্যাস ক্রসফিলিংয়ের গুদামে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে। তবে মাস না ঘুরতেই চালু হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়া ওই গুদামে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দিয়েছিল। কিন্তু মাস না ঘুরতেই ওই গুদামে আবারো শুরু হয় ছোট বোতলে গ্যাস ক্রসফিলিংয়ের কাজ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, আগুনের ভয়াবহতা এবং মুহুর্মুহু বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তারা হতবাক। আগুনের লেলিহান শিখা, কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এলাকা। এত বড় অগ্নিকাণ্ডের পর ১০ জনের বেরিয়ে আসাটা অলৌকিক।
খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন। তিনি বলেন, পুড়ে যাওয়া গুদামটিতে অবৈধভাবে গ্যাস ক্রসফিলিং করা হতো বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি। বিশেষ প্রক্রিয়ায় সরকারি সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর করা হয়। এ কাজটি সম্পূর্ণ অবৈধ, বেআইনি ও বিপজ্জনক। এ অবৈধ কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করত, গ্যাসের উৎস কী তা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি কোথায় কোথায় এসব অবৈধ গ্যাস ক্রসফিলিং গুদামে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে খবর নিয়ে প্রত্যেকটা গুদামে অভিযান চালানো হবে।











