বিএনপি যতই রূপরেখা দিক, নির্বাচন সংবিধান মেনে : তথ্যমন্ত্রী

| বুধবার , ২৮ জুন, ২০২৩ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির দেওয়া ‘রূপরেখায়’ জাতীয় নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। আর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতোই বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।

কয়েকটি দেশের উদাহরণ টেনে হাছান মাহমুদ বলেন, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র যেভাবে অনুশীলন করে, আমাদের দেশেও আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। তারা (বিএনপি) যত ধরনের রূপরেখাই দেন না কেন, সংবিধানের এক চুলও ব্যত্যয় হবে না। সংবিধান অনুযায়ী অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বর্তমান সরকারই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে।

ঈদের পর বিএনপির ‘এক দফা’ আন্দোলন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দলটি ২০১৩ সাল থেকেই এক দফা আন্দোলন শুরু করেছে। আন্দোলনের নামে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে দেশের মানুষ তাদের নৈরাজ্য দেখেছে। মানুষকে পুড়িয়ে মারার মহোৎসব আমরা দেখেছি। সেই পরিস্থিতি আমরা সামাল দিয়েছি। এখন বিএনপি কতটুকু কী করতে পারে, সেটা নিয়ে আমাদের ধারণা আছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া এখন খাঁচায় বন্দি বাঘ আর তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশান্তরী পলাতক আসামি। বিএনপি মহাসচিবসহ তাদের অন্যান্য নেতৃত্ব কতটুকু কি করতে পারে, সেক্ষেত্রে কী করতে হবে, সেটা আমাদের জানা আছে। তাদের শক্তিসামর্থ্য সম্পর্কে আমরা জানি। তাদের এসব কথা বাগাড়ম্বর ছাড়া অন্য কিছু নয়।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন মন্ত্রী। ‘এই বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এমন একটা পরিবেশ দেখতে চাইনি’বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মহাসচিব অবচেতন মনে সত্য কথা বলেছেন। কারণ উনি আর উনার বাবা বাংলাদেশটাই চাননি। উনার বাবা ছিলেন পাকিস্তানপন্থী। ফখরুল সাহেব ক’দিন আগে বলেছিলেন, পাকিস্তানই ভালো ছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশটাই উনি চাননি। আর উনি তো কোনোভাবেই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। দেশ স্বাধীনের পর তিনি অনেকদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

তারা চায় অর্থনীতি খারাপ হোক : দেশের সার্বিক উন্নয়ন বিএনপির চোখে পড়লেও তারা চোখ বন্ধ রাখতে চান বলে মন্তব্য করেছেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগসিপিডি ও কয়েকজন অর্থনীতিবিদের কিছু মন্তব্যের সূত্র ধরে বিএনপি যে সমালোচনা করেন তারা কোনোদিন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো দেখেননি। কিন্তু তাদের এই ভালো না দেখার মধ্যেও আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ৬০০ ডলার থেকে ২৮০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নেমেছে। দেশ স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ে উন্নীত হয়েছে। এখন জিডিপিতে বিশ্বের ৩৫তম ও পিপিপিতে ৩১তম, খুব সহসাই ২৭তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে। বিএনপি এগুলো কোনোদিন দেখেনি। তাদের চোখে ছানি পড়েছে কিংবা না দেখার দৈন্যের জন্য তারা চিকিৎসক দেখাতে পারেন।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, আমাদের কষ্ট হয় যে বিএনপি নেতারা দেখেও দেখতে পান না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে। মহামারীতে বিশ্বে মাত্র ২০টি দেশে জিডিপি বেড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এগুলোও যদি তারা না দেখেন, তাহলে বলার কিছু নেই। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি তার।

হাছান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অর্থনীতি নানাভাবে চাপে ছিল। আমাদের অর্থনীতি সেটিও কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমাদের রিজার্ভ কমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সেটি এখন বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। কিন্তু মির্জা ফখরুল সাহেবরা কামনা করেন অর্থনীতিটা খারাপ হোক। সেজন্যই তারা এসব কথা বলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবৃষ্টিপাত হতে পারে আগামী তিন দিন
পরবর্তী নিবন্ধসরগরম বাজার, জমজমাট বেচাকেনা