বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী ফ্রন্ট ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

রাঙ্গুনিয়া

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

মাঘ মাসের তীব্র শীতেও উষ্ণতা ছড়াচ্ছে চট্টগ্রাম(রাঙ্গুনিয়া) সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচার প্রচারণা। এই আসনে আট প্রার্থী অংশ নিলেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীই প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। তাদের নিয়েই এখন রাঙ্গুনিয়ার সর্বত্র চলছে নানা হিসেবনিকেশ এবং আলোচনা। এই তিন প্রার্থীর বাইরেও এবি পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশএর প্রার্থীরাও প্রচারণা চালাচ্ছেন, তবে তা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি। তাই রাঙ্গুনিয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় নির্বাচনী উত্তাপ বেড়েই চলেছে রাঙ্গুনিয়ায়। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নানা পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও সরগরম। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পাড়ামহল্লা, হাটবাজার, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে জনসভা, পথসভা, মতবিনিময় সভাসহ লিফলেট নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীসহ তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে সুষ্ঠু ভোট ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবং প্রচারণায় আচরণবিধি মনিটোরিংয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীকে পৃথক নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এভাবে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মাঝে ততই নির্বাচনী উচ্ছ্বাস বাড়ছে। কে হতে যাচ্ছেন আগামীর রাঙ্গুনিয়ার কর্ণধার, এই নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ। তবে যিনি রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো সমাধান করে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং মাদক, সন্ত্রাস, বালিদস্যু ও চাঁদাবাজদের শায়েস্তা করে শান্তির জনপদে পরিণত করতে পারবেন এমণ জনপ্রতিনিধিকে বেঁচে নেয়ার অঙ্গীকার সাধারণ ভোটারদের।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ায় ভোটে অংশ নিচ্ছেন আট প্রার্র্থী। তারা হলেনহুমাম কাদের চৌধুরী (বিএনপি), এটিএম রেজাউল করিম (বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী), অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হারুন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), প্রমোদ বরন বড়ুয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি), মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন (গণ অধিকার পরিষদ) ও আবদুর রহমান মনির (এবি পার্টি) এবং মো. মেহেদী রাশেদ (জাতীয় পার্টি)

ভোটের মাঠে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাড়ামহল্লায় গিয়ে গণসংযোগ করে চলেছেন। এরমধ্যে তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় গণমিছিল ও জনসভাও করেছেন। প্রচারণাকালে তিনি ভোটারদের চট্টগ্রাম তথা রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নে তার দাদা ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কথা উল্লেখ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল শনিবার রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও গণসংযোগ করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়াকে আমরা নতুন করে সাজাতে চাই। এখানকার প্রধান সমস্যা ভয়ের সংস্কৃতি, নিরাপত্তা সংকট। আমরা এ জনপদকে আগামী প্রজন্মের সামনে নিরাপদ করে তুলে ধরতে চাই।

একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারণা চালাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরাও। নিজেকে রাঙ্গুনিয়ার ভূমিপুত্র দাবি করে নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি। প্রচারণাকালে ডা. রেজাউল করিম বলেন, এবারের নির্বাচন রাঙ্গুনিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হবে পরিবর্তনের পক্ষে, সৎ নেতৃত্বের পক্ষে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়ার নির্বাচন। একইভাবে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বৃহত্তর সুন্নী জোটের মনোনীত মোমবাতী প্রতীকের ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান। তার সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও ব্যাপক প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে। সুন্নীদের ভোট ব্যাংক বিবেচনায় ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থীর বেশ অবস্থান থাকলেও তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তার পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে দলটির কর্মী সমর্থকদেরও।

এদিকে পিছিয়ে নেই নির্বাচনী প্রচারণায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী আবদুর রহমান মনির। তিনিও ঈগল প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আলহারুন। সব মিলিয়ে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে এবং প্রতিটি জনপদ এখন নির্বাচনী আমেজে মুখর। ত্রিমুখী লড়াইয়ের মধ্যেই শেষ হাসি কে হাসবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল পর্যন্ত। রাজনৈতিক হানাহানি এড়িয়ে রাঙ্গুনিয়ার যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাউজানে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীর গণসংযোগে হামলার অভিযোগ
পরবর্তী নিবন্ধলড়াই হবে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, মোমবাতিতে