নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিলে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তার দল এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে। এ বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
বহু বছর বংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে। কিন্তু চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সেই চেনা দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে গত দেড় দশক দেশ শাসন করা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে। এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা ২০০১–০৬ মেয়াদে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে। খবর বিডিনিউজের।
রয়টার্স লিখেছে, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে? তিনি বলেন, আমি জানি না তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে।
শুক্রবার যে নির্বাচনি ইশতেহার বিএনপি ঘোষণা করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে বিএনপি। তবে সেই সরকারে যে তারা জামায়াতকে চায় না, সে কথা এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছিলেন।
বিএনপি নেতাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, ৩০০ আসনের সংসদে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তারা। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্ররা। নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে অস্বীকৃতি জানালেও তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।
ভোটের আগে প্রায় সব জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হচ্ছে। অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিও ওই জোটে রয়েছে।
বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি কী হবে : রয়টার্স লিখেছে, আন্দোলন দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। তাতে করে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপি জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কিনা–এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের বাংলাদেশের প্রয়োজন। আমরা সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।
রোহিঙ্গারা থাকবে? : নিজেদের নানা সমস্যা নিয়েও মিয়ানমারের প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর বলেছিল, এই শরণার্থীদের অনির্দিষ্টকাল সহায়তা দিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তাও চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। তারেক রহমানও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।












