উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি। ফলে আসন্ন সংসদে বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত–এনসিপি জোট। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট হওয়া ২৯৯ আসনের মধ্যে প্রায় দুইশ আসনে বেসরকারি ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত–এনসিপি জোট এগিয়ে আছে অর্ধশতাধিক মতো আসনে। গতকাল ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, বিএনপির প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১৮৫টি। অন্যদিকে জামায়াত–এনসিপি জোট পায় ৫২টি আসন। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল পায় ৩টি। এ নির্বাচনে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে গণভোটে দেখা গেছে– যেসব আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে ‘হ্যা’ এগিয়ে আছে। এছাড়া কিছু আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও জয়ের সম্ভাবনা দেখা গেছে। কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জামালপুর, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাগুরা, নরসিংদীর সব আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে সাতক্ষীরার ৪টি আসনে জয়লাভ করেছে জামায়াত। এছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভালো করেছে। খুলনা, রংপুর, রাজশাহী বিভাগে ভালো করেছে জামায়াত–এনসিপি জোট। ঢাকা, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর বিভাগে ভালো করেছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারম্যান বগুড়া–৬ ও ঢাকা–১৭ আসন থেকে জয়লাভ করেছে। জামায়াতের আমীর ঢাকা–১৫ আসনে এখনো পর্যন্ত এগিয়ে আছে।
নির্বাচনের ভোট পড়ার হার এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এখনো সব ফলাফল পৌঁছেনি আমাদের কাছে। আমরা আশা করি, প্রায় ৬১ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে। কারণ, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে ৬০ শতাংশের কম ভোট হবে না বলে ধারণা করছি। তবে সংসদ নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়েছে, সেই প্রশ্নে সবগুলো আসনের ভোট গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি এ কথা বলেন।
এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করেছে। এতে দলীয় প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। শেরপুর–৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় আসনটিতে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও–১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কঙবাজার–১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ, ঢাকা–১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, সিলেট–১ আসনে খন্দকার মুক্তাদীর, কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, নেত্রকোনো–৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর, কিশোরগঞ্জ–৬ আসনে শরিফুল আলম, মোলভীবাজার–৩ আসনে নাছের রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনে জোনায়েদ সাকি, পটুয়াখালী–৪ আসনে এবিএম মোশারফ হোসেন, ঝিনাইদহ–১ আসনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ফরিদপুর–২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর–৪ আসনে শহীদুল ইসলাম বাবুল, মাগুরা–১ মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা–২ আসনে নিতায় রায়, সুনামগঞ্জ–১ কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ–২ নাসির উদ্দীন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ–৩ আসনে কায়সর এম আহমেদ, সুনামগঞ্জ–৪ নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ–৫ কলিম উদ্দিন মিলন, জামালপুর–১ এম রশিদুজ্জামান (মিল্লাত), জামালপুর–২ সুলতান মাহমুদ (বাবু), জামালপুর–৩ মোস্তাফিজুর রহমান (বাবুল), জামালপুর–৪ ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম), জামালপুর–৫ শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী (মামুন), মানিকগঞ্জ–২ আসনে মঈনুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ–৩ আসনে আফরোজা খানম রিতা, লক্ষ্মীপুর–১ শাহদাৎ হোসেন সেলিম, খুলনা–৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা–৪ আসনে আজিজুল বারী হেলাল। চাঁদপুর–১ আসনে এহসানুল হক মিলন, চাঁদপুর–২ আসনে জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর–৩ আসনে ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর–৪ আসনে হারুনুর রশীদ, চাঁদপুর–৫ আসনে মমিনুল হক, যশোর–৩ আসনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
নড়াইল–১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, বরিশাল–৩ আসনে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদন, ফেনী–১ আসনে রফিকুল আলম মজনু, ফেনী–২ আসনে জয়নাল আবেদিন, ফেনী–৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টু, রাজবাড়ী ২ আসনে হারুনুর রশীদ হারুণ, হবিগঞ্জ–১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ–২ আসনে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ–৩ আসনে জি কে গৌউছ, হবিগঞ্জ–৪ আসনে সৈয়দ ফয়সল আহমদ চৌধুরী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া–১ আসনে এম এ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৪ আসনে মুশফিকুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনে জুনায়েদ সাকি। ভোলা–৪ আসনে নুরুল ইসলাম নয়ন, ঝালকাঠি–১ আসনে রফিকুল ইসলাম, ঝালকাঠি–২ আসনে ইলেন ভুট্টো। পটুয়াখালী–৩ নুরুল হক নুরু, খাগড়াছড়ি– অজত ভূইয়া, বরিশাল–১ জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল–২ সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল–৩ জয়নুল আবেদিন, বরিশাল–৪ রাজীব আহসান। কুমিল্লা–১ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা–২ অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, কুমিল্লা–৩ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, কুমিল্লা–৬ মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা–৮ জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা–৯ আবুল কালাম, কুমিল্লা–১০ মোবাশ্বের আলম ভুইয়া। নরসিংদী–১ আসনে খায়রুল কবীর খোকন, নরসিংদী–২ আসনে ড. আবদুল মঈন খান, নরসিংদী–৩ আসনে মনজুর এলাহী, নরসিংদী–৪ আসনে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নরসিংদী–৫ আসনে আশরাফ উদ্দিন বকুল। জামায়াত সাতক্ষীরা–১ আসনে অধ্যক্ষ ইজ্জ্বত উল্লাহ, সাতক্ষীরা–২ আসনে মাওলানা আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা–৩ আসনে রবিউল বাসার, সাতক্ষীরা–৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা–৪ আসনে এনসিপির হাসানাত আব্দুল্লাহ, কুড়িগ্রাম–৪ মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্তত ৫১টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়াও বেশকয়েকটি আসনে জামায়াত–এনসিপি জোট এগিয়ে আছে।












