বিএনপির জোয়ারের দিনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী, আক্ষেপ রুমিন ফারহানার

| শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির একটা জোয়ার দেখা যাচ্ছে, যেখানে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে আক্ষেপ করেছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তের প্রেক্ষাপটে যেহেতু আওয়ামী লীগ নাই, বিএনপির একটা জোয়ার দেখা যাচ্ছে। সেখানে আমি আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী। এটাকে আমি ভাগ্যের খেলা ছাড়া কীবা বলতে পারি।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া২ আসন বিএনপির জোট শরিক দলের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এই আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। এ আসনের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়া আপনাকে মনোনয়ন দিতে বলেছিলেন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দলের ঊর্ধ্বতন, অতি ঊর্ধ্বতন কিছু মানুষ গিয়েছিলেন ওনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করতে। তখন উনি বলেছিলেন এই কথাটা। রুমিনেরটা কি হলো, রুমিনকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না। তিনি হাসপাতালে যাবার দুই তিন দিন আগেও এই কথাটা বলেছিলেন। যেটাই হোক রাজনীতিতে কিন্তু তকদিরের বাইরে কিছুই হয় না। ভীষণ রকম ভাগ্য এখানে কাজ করে। আমার ভাগ্যে ঠিক ওটাই ঘটছে, যেটা আমার বাবার সঙ্গে ১৯৭৩ সালে ঘটেছিল। তখন নৌকার জোয়ার ছিল। আর অন্য কোনো দলের জোয়ার ছিল না। বাবা স্বতন্ত্র জিতেছিল।’

এ আসনে জোটের প্রার্থী সঠিক হলো কিনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মানুষ যদি ভোট দেয়, সঠিক সিদ্ধান্ত। যদি মানুষ ভোট না দেয়, ভুল সিদ্ধান্ত। যদি কোনো বেইনসাফ হয়ে থাকে সেই বিচার আমি আমার ভোটারদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। মানুষ কি বলে আপনি দেখেন।’

তিনি বলেন, ‘এ আসনে মানুষ ও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া আমি দেখছি। মুরুব্বিরা আসেন এবং বলেন, ‘আম্মা আপনাকে জিতায়ে আমরা জবাব দেব।’ এই যে মানুষের ভালোবাসা এই ঋণ আমি কী দিয়ে পরিশোধ করব।’

মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতি ক্ষোভ আছে কিনা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একদম না। দলের যখন দুঃসময় ছিল তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটা অনেক সময় দেখা গেছে, সেটা আমার বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক বড়। সে দায়িত্ব আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যেটার একটা রূপ আপনারা দেখেছেন। ২০১৮ সালের সংসদে ২০১৯ সাল থেকে আমি যোগদান করি এবং সেখানে আমার ভূমিকা কী ছিল। যখন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আমাকে পদত্যাগ করতে বলে, আমি এক মুহূর্ত চিন্তা করি নাই। যখন বলেছে, যেদিন বলেছে, আমি সেই মুহূর্তেই পদত্যাগ করেছি। এরপর দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্ব আমি তাকে আমি স্বাগত জানাই। আমার সেবার আর কোনো দরকার নেই ঠিক আছে, ভালো। আমি আমার রাজনীতি চালিয়ে যাব।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে পৃথক অভিযানে৭৮ হাজার টাকা জরিমানা
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের দাপটে পিষ্ট ঢাকা